প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন মুকুল রায়। কোথায় কি কর্মসূচি হবে, কিভাবে হবে, এমনকি দলের সংগঠন কিভাবে পরিচালিত হবে, তার সবটাই দেখতেন এই মুকুল রায়। যার ফলে অনেকেই তৃণমূল কংগ্রেস না বলে তৃণমুকুল কংগ্রেস বলে অভিহিত করতেন। সকলেই জানতেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ হয়েছেন ঠিকই। কিন্তু সংগঠনের সবটাই দেখতেন মুকুল রায়। আর সেই কারণে মুকুল রায়ের চোখ দিয়েই গোটা দল দেখতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাঝে দূরত্ব তৈরি হয়। ২০১৭ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন মুকুল রায়। তারপর আবার নিজের পুরোনো দল তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসেন তিনি। বহু বিতর্ক তৈরি হয় এই দল বদল নিয়ে। অবশেষে সেই মুকুল রায় আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। আর দীর্ঘদিনের পুরোনো সহকর্মীকে হারিয়ে বিচলিত হয়ে পড়েছেন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুকুল রায়ের প্রয়াণের খবর পেয়েই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে শোক প্রকাশ করলেন তিনি।
আজ সকালেই বিভিন্ন টেলিভিশন মিডিয়ায় খবর ভেসে আসে যে, দীর্ঘদিন রোগভোগের পর অবশেষে প্রয়াত হয়েছেন বঙ্গ রাজনীতির একসময়কার চাণক্য মুকুল রায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। আর এই প্রয়ানের খবর পেয়েই সকল স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে হারিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সোজ্ঞাপন করেছেন তিনি যেখানে মুকুল রায়ের এই মৃত্যুর খবর তাকে বেদনা হত করেছে বলে পোস্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।।
এদিন মুকুল রায়ের প্রয়াণে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। যেখানে তিনি লেখেন, “প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের সহসা প্রয়াণের খবরে বিচলিত, মর্মাহত বোধ করছি। তিনি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন। বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর বিদায়ের খবর আমাকে বেদনাহত করেছে। প্রয়াত মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দলের জন্য প্রাণপাত করেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন। দলের সর্বস্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিলো। পরে তিনি ভিন্ন পথে যান। আবার ফিরেও আসেন। বাংলার রাজনীতিতে তাঁর অবদান এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কথা ভোলার নয়। দলমত নির্বিশেষে তাঁর অভাব অনুভব করবে রাজনৈতিক মহল। এই অভিজ্ঞ নেতা ও সহকর্মীর পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। শুভ্রাংশুকে বলবো, মন শক্ত করো। এই সংকটে আমরা তোমার সঙ্গে আছি।”