প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার নিয়োগ রাজনীতির ইতিহাসে আজ এক ঐতিহাসিক মোড়। শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার তথা ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশ করতে এসে রাজ্য কাঁপানো জোড়া ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একদিকে যখন রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজপথ উত্তাল, ঠিক তখনই বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষতে প্রলেপ দিতে ৫ বছরের ‘বয়স ছাড়’ এবং পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য এককালীন ১৫,০০০ টাকার ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিলেন তিনি। শাহের এই ঘোষণায় এই মুহূর্তে উত্তাল বাংলার অলিগলি থেকে সোশ্যাল মিডিয়া।
বাংলার হাজার হাজার মেধাবী ছাত্রছাত্রী টাকার অভাবে বড় কোনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে পারেন না বা প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই কিনতে হিমশিম খান। অমিত শাহ আজ বাংলার সেই যুবশক্তির পাশে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের প্রত্যেক যোগ্য যুবক-যুবতীকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার (Competitive Exams) প্রস্তুতির জন্য এককালীন ১৫,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এই প্রকল্পের বিশেষত্ব হলো, এটি কোনো লোন বা ঋণ নয়, বরং মেধাবী পড়ুয়াদের লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য সরাসরি সরকারি অনুদান। শাহের কথায়, “বাংলার যুবকদের মেধা আছে, শুধু অভাব ছিল সঠিক সুযোগের। এই ১৫,০০০ টাকা তাদের পড়াশোনার উপকরণ সংগ্রহে এবং প্রস্তুতির প্রাথমিক বাধা দূর করতে ঢাল হয়ে দাঁড়াবে।”
গত কয়েক বছরে বাংলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তার সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছেন সেইসব যোগ্য প্রার্থীরা, যাঁদের চাকরির বয়স লড়াই করতে করতেই শেষ হয়ে গিয়েছে। রাজপথে বছরের পর বছর আন্দোলনের জেরে অনেকেরই সরকারি চাকরির আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা পেরিয়ে গিয়েছে। তাঁদের জন্য আজ ‘ত্রাতা’র ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন অমিত শাহ। তিনি স্পষ্ট সংকল্প নিয়েছেন—যাঁরা দুর্নীতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে চাকরি পাননি বা যাঁদের সময় নষ্ট হয়েছে, তাঁদের জন্য সরকারি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে ৫ বছর পর্যন্ত বয়সে ছাড় দেওয়া হবে। অর্থাৎ, সিস্টেমের ভুলে যাঁদের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল, এই ৫ বছরের অতিরিক্ত সময় তাঁদের হারানো সম্মান ও রুটিরুজি ফিরে পাওয়ার শেষ লড়াইয়ের সুযোগ করে দেবে।
অমিত শাহের এই ঘোষণা সরাসরি সেইসব ভোটারের হৃদয়ে নাড়া দেবে যাঁরা নিয়োগ দুর্নীতির শিকার। ৫ বছরের ছাড়ের সিদ্ধান্তটি কেবল প্রশাসনিক নয়, এটি একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা। ১৫ হাজার টাকার এককালীন সাহায্য মূলত গ্রামীণ ও মফস্বলের সেইসব পড়ুয়াদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে, যাঁরা অর্থের অভাবে পিছিয়ে পড়ছিলেন। এই ঘোষণা প্রমাণ করে যে, বিজেপি বাংলার বেকারত্বের জ্বলন্ত সমস্যাটিকে ইশতেহারের কেন্দ্রে রেখেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, অমিত শাহের আজকের এই জোড়া ঘোষণা বাংলার শিক্ষিত যুবসমাজের ক্ষোভকে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তরিত করার একটি সুচিন্তিত পরিকল্পনা। একদিকে আর্থিক নিরাপত্তা এবং অন্যদিকে বয়সের শিথিলতা—এই দুইয়ের মিশেলে বিজেপি বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়ার রণকৌশল নিয়েছে। কলকাতার এই সংকল্প পত্র প্রকাশের মঞ্চ থেকে অমিত শাহের প্রতিটি শব্দ যেন বাংলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এক নতুন আশার আলো নিয়ে এলো। এখন দেখার, এই ঐতিহাসিক ঘোষণা আগামী দিনে বাংলার মসনদ দখলের লড়াইয়ে কতটা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে।