প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২৬ এর মহাযুদ্ধের মুখে বাংলার জন্য একগুচ্ছ ‘বিস্ফোরক’ ও জনকল্যাণমুখী প্রতিশ্রুতি নিয়ে এল ভারতীয় জনতা পার্টি। আজ বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এমন কিছু ঘোষণা করলেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ আমূল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এদিন শাহের ঘোষণার সবথেকে বড় চমক ছিল রাজ্যের মহিলাদের জন্য। ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে মহিলাদের জন্য ১০০ শতাংশ ‘বিনা শুল্ক’ বা বিনামূল্যে পরিবহণ নিশ্চিত করবে বিজেপি সরকার। অর্থাৎ, সরকারি বাসে যাতায়াতের জন্য মা-বোনেদের আর পকেট থেকে টাকা খরচ করতে হবে না। নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এটি বিজেপির একটি বড় মাস্টারস্ট্রোক বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং নারী সুরক্ষা নিয়ে বারবার সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। এদিন অমিত শাহ স্পষ্ট জানান, সন্দেশখালির মত নক্কারজনক ঘটনা আটকাতে বিজেপি সরকার বদ্ধপরিকর। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে এবং প্রকৃত দোষীদের সাজা নিশ্চিত করতে ‘অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের’ পর্যবেক্ষণে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে বাংলার মা-বোনেদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই বিজেপির লক্ষ্য।

শুধু সামাজিক সুরক্ষা নয়, বাংলার ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ব্লু-ইকনমি বা নীল-অর্থনীতির ওপর জোর দিয়েছেন শাহ। তিনি জানান, তাজপুর ও কুলপিতে বিশেষ ‘ডিপ সি পোর্ট’ বা গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করা হবে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উঠবে ভারতের ব্লু-ইকনমির প্রধান রফতানি ক্ষেত্র। সমুদ্র-নির্ভর বাণিজ্যের মাধ্যমে রাজ্যে হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে থাকা চা এবং পাট শিল্পের সমস্যা মেটাতেও বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি। শাহের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এই দুই শিল্পে আধুনিকীকরণ ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়া হবে। উত্তরবঙ্গের চা বাগান থেকে দক্ষিণবঙ্গের চটকল—শ্রমিকদের মুখে হাসি ফোটাতে একগুচ্ছ আর্থিক প্যাকেজ ও সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে, শাহের এই ‘সংকল্প’ বাংলার বুকে পরিবর্তনের নতুন ঢেউ তুলবে বলেই দাবি বিজেপি শিবিরের। এখন দেখার, এই হাই-ভোল্টেজ প্রতিশ্রুতি সাধারণ মানুষের মনে কতটা প্রভাব ফেলে।