প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে মোদী সরকারের সংকল্প যে কতটা সুদৃঢ়, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ। গুজরাটের গান্ধীনগরে এক জনসভা থেকে দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাফ বার্তা, ভারতের পবিত্র মাটিতে অবৈধভাবে লুকিয়ে থাকা প্রত্যেকটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে দেশছাড়া করা হবে।একই মঞ্চ থেকে বিগত তোষণ রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষায় অভূতপূর্ব ও দ্রুত পদক্ষেপ করার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ জানান যে, অনুপ্রবেশের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জনবিন্যাসে যে কৃত্রিম ও অস্বাভাবিক পরিবর্তন (Demographic Change) ঘটছে, তা রুখতে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভলেকর-এর নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘ডেমোগ্রাফি বদল কমিশন’ (High-Level Committee on Demographic Changes)। এই উচ্চপর্যায়ের কমিশন আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সার্বিক জনবিন্যাসের ওপর তদন্ত করে তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবে। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অত্যন্ত কঠোর এবং প্রয়োজনীয় নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।

বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গ যেভাবে অনুপ্রবেশকারীদের ‘সেফ জোন’ বা নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিল, বর্তমান বিজেপি সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সেই অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বাংলায় শুরু হয়েছে অনুপ্রবেশ দমনের এক নতুন যুগ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, সীমান্ত সুরক্ষাকে মজবুত করতে এবং কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মাত্র ৭ দিনের মধ্যে বিএসএফ (BSF)-এর হাতে ৬০০ হেক্টর জমি হস্তান্তর করেছেন। একই সাথে চিকেনস নেক (Siliguri Corridor) এলাকার অত্যন্ত সংবেদনশীল ১২১ হেক্টর জমিও কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বাংলার এই ‘জিরো টলারেন্স’ মডেল ও ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতি আজ সমগ্র দেশের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহের এই কড়া ও সুনির্দিষ্ট বার্তার পর অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সীমান্ত সুরক্ষায় কড়াকড়ি এবং রাজ্যে নতুন ডিটেনশন সেন্টার তৈরি হওয়ার পর বহু অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ইতিমধ্যেই নিজ দায়িত্বে ভারত ছাড়তে শুরু করেছে।এই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি মানবিক ও স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “যারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে স্বেচ্ছায় সীমান্ত পেরিয়ে নিজেদের দেশে ফিরে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ভারত সরকার কোনও আইনি পদক্ষেপ করবে না। কিন্তু যারা এরপরও এদেশের নাগরিকের অধিকার কেড়ে নিয়ে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করবে, তাদের খুঁজে বের করে আইনি খাঁড়ার মুখোমুখি করা হবে।” রাষ্ট্রবাদী মহলের মতে, মোদী সরকারের এই কঠোর ও দূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে ভারতের সীমানা যেমন চিরতরে নিশ্ছিদ্র হবে, তেমনই সুরক্ষিত থাকবে দেশের মূল সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও যুবসমাজের ভবিষ্যৎ।