প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আজ সাতসকালে দেশের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তে আকস্মিক তৎপরতা। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক ভোর ৪টে। সাধারণ মানুষের ঘুম ভাঙার আগেই গুজরাটের আহমেদাবাদ শহরের এক বিশেষ স্থানে সশরীরে হাজির হলেন দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি পৌঁছানো মাত্রই চারপাশের নিরাপত্তা এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে বিশেষ কমান্ডো ও পুলিশ বাহিনী। আচমকা কী এমন ঘটল সেখানে, যা নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল?

আসলে কোনো জরুরি রাজনৈতিক বৈঠক বা আকস্মিক সংকট নয়, প্রতি বছরের মতো এবারও এক ঐতিহাসিক ও পবিত্র দায়িত্ব পালন করতে আহমেদাবাদের ঐতিহ্যবাহী জামালপুর জগন্নাথ মন্দিরে উপস্থিত হয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আজ, ১৬ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে আহমেদাবাদের ঐতিহাসিক ১৪৯তম জগন্নাথ রথযাত্রা। আর এই মহা উৎসবের সূচনা লগ্নেই ভোরবেলা মন্দিরে উপস্থিত হয়ে প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীর চরণে প্রণাম জানান তিনি।

প্রতি বছরের মতো এই বছরের রথযাত্রার দিনটিতেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের হাতে সম্পন্ন করলেন প্রভুর বিশেষ ‘মঙ্গলারতি’। ভোর ৪টের সেই পবিত্র মুহূর্তে মন্ত্রোচ্চারণ এবং শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে আহমেদাবাদের রথযাত্রার মূল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। তিনি দেশের সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করে আরতি করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ভোরের সফরের পাশাপাশি পুরো আহমেদাবাদ শহরকে বর্তমানে একটি দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। রথযাত্রার এই দীর্ঘ ১৬ কিলোমিটারের যাত্রাপথকে সুরক্ষিত রাখতে—৩১,০০০-এর বেশি পুলিশকর্মী রাস্তায় মোতায়েন করা হয়েছে। এআই (AI) চালিত হাই-টেক নজরদারি ব্যবস্থা এবং ড্রোনের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডের লাইভ ফুটেজ ট্র্যাক করা হচ্ছে।স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বসানো হয়েছে হাজার হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা।

অমিত শাহের আরতি শেষ হওয়ার পরপরই গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল ঐতিহ্যবাহী ‘পহিন্দ বিধি’ অর্থাৎ সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের পথ পরিষ্কার করার রীতিটি সম্পন্ন করেন। এরপরই খালাসি সম্প্রদায়ের মানুষজন রথের দড়িতে টান দিয়ে এই বিশাল উৎসবের শুভ সূচনা করেন। পুরীর পর এটিই ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম রথযাত্রা উৎসব, যা দেখতে আজ লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নেমেছে আহমেদাবাদের রাজপথে।