প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
তার রাজ্যের বুকে এত বড় মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তিনি এখনও পর্যন্ত সেই ঘটনাস্থলে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনটুকু মনে করেননি। স্বাভাবিকভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধরনের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরে এত মানুষের মৃত্যু হলো। তারপর সামান্য কিছু অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ঘোষনা করে দিয়েই কি দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সোচ্চার হচ্ছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে পশ্চিমবঙ্গে যে বিজেপিকে ক্রমাগত বাংলা এবং বাংলা বিরোধী বলে দাবি করে তৃণমূল কংগ্রেস, সেই বিজেপির প্রধান মুখ তথা দেশের প্রধানমন্ত্রী এবার আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যে পদক্ষেপ দিল্লি থেকে নিয়ে ফেললেন, তারপর প্রশ্ন উঠছে যে, বাংলায় থেকেও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কেন সেখানে পৌঁছতে পারলেন না?
ইতিমধ্যেই আনন্দপুরে যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি করেছে বিজেপি। আজ সেখানে মিছিল করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একাধিক দাবি করেছেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আর তার মধ্যেই এক্স হ্যান্ডেলে সেই আনন্দপুরে যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয়েছে, সেই ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি যারা আহত হয়েছেন তাদেরও আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। আর বাংলার বুকে ঘটে যাওয়া এত বড় ভয়ংকর ঘটনার খোঁজখবর যে নরেন্দ্র মোদীর কাছে থাকে এবং তিনি যে বাংলার এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চিন্তিত এবং সমব্যথী, তা প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে গেল। আর সেই কারণেই তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে রাজ্য বিজেপি।
সূত্রের খবর, এদিন এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যেখানে আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে দু লক্ষ টাকার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি যারা আহত হয়েছেন, তাদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। এছাড়াও গোটা ঘটনায় সমবেদনা প্রকাশ করেছেন তিনি। আর এখানেই বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তো এত জনদরদী। তিনি তো বলেন যে, নরেন্দ্র মোদী নাকি ভোটের সময় শুধুমাত্র বাংলায় আসেন। ভোটের পরে নাকি তারা বাংলাকে ভুলে যান। কিন্তু বাংলার বুকে, কলকাতার উপকণ্ঠে এত বড় মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল, অথচ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সেখানে একবারটিও যাওয়ার সময় পেলেন না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে থেকেও তার দায়িত্ব এবং কর্তব্য ভুলে যাননি। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের মধ্যে দিয়ে বাংলার এই ঘটনা যে তার মনে যথেষ্ট দাগ ফেলেছে, তা বুঝিয়ে দিয়ে মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিলেন। তাই কথায় কথায় সমালোচনা না করে নরেন্দ্র মোদীর মত প্রশাসককে দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেখা উচিত বলেই দাবি করছে গেরুয়া শিবিরের ঘনিষ্ঠ মহল।