প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বঙ্গে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে এবার নজিরবিহীন অ্যাকশন মোডে রাজ্য প্রশাসন। গত দেড় দশকের সমস্ত “প্রাতিষ্ঠানিক চুরি” ও তোলাবাজির হিসাব মেলাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করল নবান্ন। সাধারণ মানুষের করের টাকা লুটে যারা পকেট ভারী করেছেন, তাঁদের জেলের ভাত খাওয়াতে এবার আইনি ব্রহ্মাস্ত্র নিয়ে ময়দানে নামছে ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি তদন্ত কমিশন’। কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনকে যে বিপুল ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ পেতেই ঘুম উড়েছে বহু রাঘববোয়ালের।

নবান্নের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, ২০১১ সালের মে মাস থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত—অর্থাৎ পূর্বতন সরকারের গোটা আমলের সমস্ত কেলেঙ্কারিকে এই তদন্তের আতসকাচের নিচে আনা হচ্ছে। এই ১৫ বছরে হওয়া আমফানের ত্রাণের টাকা চুরি, ১০০ দিনের কাজের ভুয়ো জব কার্ডের খেলা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকার বিনিময়ে চাকরি বা উপাচার্য নিয়োগের মতো সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। বাদ যাচ্ছে না সরকারি হাসপাতাল, মেডিক্যাল শিক্ষা এবং শিশুদের মিড-ডে মিলের অর্থ নয়ছয়ের ঘটনাও।

বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এবং এডিজি পদমর্যাদার দুঁদে আইপিএস অফিসার কে জয়রামনের এই টিমকে কার্যত অসীম ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি বা কাটমানির মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পত্তি ও টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, তা আইন মেনে অপরাধীদের থেকে সম্পূর্ণ আদায় ও পুনরুদ্ধার (Recovery) করবে এই কমিশন। তদন্তে বিন্দুমাত্র অসঙ্গতি বা অপরাধের প্রমাণ পেলেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর কড়া ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর (FIR) দায়ের করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। কাজ শুরুর মাত্র ৩০ দিনের মধ্যেই কমিশনকে তাদের প্রথম অন্তর্বর্তী রিপোর্ট ও অ্যাকশন প্ল্যান জমা দিতে হবে সরকারের কাছে।

এই কমিশনের সবচেয়ে বড় চমক হলো, দুর্নীতি নিয়ে কেবল প্রশাসনিক স্তরেই ফাইল ঘাঁটাঘাঁটি হবে না, বরং সরাসরি সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছাবে এই তদন্ত কমিটি। কোনো ভুক্তভোগী নাগরিক বা জনকল্যাণমূলক সংস্থা যদি কাটমানি, সিন্ডিকেট বা তোলাবাজির শিকার হয়ে থাকেন, তবে তাঁরা সমস্ত প্রমাণসহ সরাসরি কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। সাধারণ মানুষের এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তৈরি হবে অপরাধীদের চূড়ান্ত তালিকা।মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনকে সমস্ত রকম পরিকাঠামো ও নথিপত্র দিয়ে সাহায্য করার। নবান্নের এই মাস্টারস্ট্রোকের পর রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—১৫ বছরের দুর্নীতির ঝাঁপি খুললে এবার কার কার ঠাঁই হবে শ্রীঘরে? রাজ্য রাজনীতিতে যে এক বিরাট তোলপাড় আসতে চলেছে, তা এই বিজ্ঞপ্তির ছত্রে ছত্রে পরিষ্কার।