প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক মহানাটকীয় মোড়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দিয়ে বীরভূমের সাংগঠনিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। আর দলবদলের এই মহোৎসবের আবহেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে এক নজিরবিহীন মন্তব্য করলেন বীরভূমের এই দাপুটে নেতা। সাফ জানিয়ে দিলেন, দলের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপে তাঁর তীব্র ক্ষোভ থাকলেও, নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা আজও বিন্দুমাত্র কমেনি।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেষ্ট স্পষ্ট জানান, “দলের ওপর আমার রাগ কিংবা অবিমান থাকতেই পারে, কিন্তু ব্যক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি আজও মনে-প্রাণে ভীষণ ভালবাসি।” দলনেত্রীর সঙ্গে তাঁর পুরনো সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে অনুব্রত বলেন, দিদির সঙ্গে তাঁর সমীকরণ সবসময়ই মধুর ছিল। জেলে থাকার দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি যখন অন্তরালে ছিলাম, দিদি আমার নাম করেই ভোট পার করেছেন। অথচ পরবর্তীতে আমায় বীরভূমের জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।” নিজের কষ্টের কথা লুকিয়ে না রেখে তিনি বলেন, যে দলকে নিজের রক্ত-জল করে তৈরি করেছিলেন, আজ সেটির হাল দেখে তাঁর বুকে আঘাত লাগে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে না জানিয়ে এই ভোলবদল কেন? এই তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে অনুব্রতর গলায় শোনা যায় পাল্টা চ্যালেঞ্জের সুর। তিনি উল্টে প্রশ্ন তোলেন, “শিবির বদলের কথা আমি দিদিকে কেন জানাতে যাব?” তবে একই সাথে তিনি মনে করিয়ে দেন, তৃণমূল দলটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তৈরি করেছিলেন। তাই রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্তরে তিনি শুধু দিদির কথাই বলবেন, অন্য কোনো ‘আবোল-তাবোল’ মানুষের নাম তিনি মুখেও আনতে চান না।

রাজনৈতিক মহলের মতে, অনুব্রতর এই দলবদল এবং মমতা-বন্দনার নেপথ্যে রয়েছে দলের বর্তমান অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার প্রতি এক চরম ক্ষোভ। বিশেষ করে কোনো কর্পোরেট সংস্থার হস্তক্ষেপকে তিনি যে ভালোভাবে নিচ্ছেন না, তা তাঁর কথায় স্পষ্ট। কেষ্টর দাবি, ২০০৯ বা ২০১১ সালের দিকে কোনো কর্পোরেট এজেন্সির সাহায্য ছাড়াই দল দারুণভাবে চলেছে। বাইরের কোনো সংস্থা এসে লাভপুর বা মুরারইয়ের মতো প্রত্যন্ত মাটির রাজনৈতিক সমীকরণ ও আবেগ কখনো বুঝতে পারবে না।

অনুব্রতর এই নতুন রাজনৈতিক ইনিংস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া আগামী দিনে বাংলার ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে কী ধরনের সমীকরণ তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার।