প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তিনি দীর্ঘদিন হলো জেল থেকে জামিনে মুক্ত। ক্ষমতার সেই চেনা দাপটও হয়তো আজ আর আগের মতো নেই। কিন্তু বীরভূমের একদা ‘বেতাজ বাদশা’ অনুব্রত মণ্ডলের অতীতের ‘কীর্তি’র খতিয়ান যেন শেষ হওয়ার নামই নিচ্ছে না! এবার আর কোনো বড়সড় কয়লা বা গরু পাচার নয়, সরাসরি এক ব্যবসায়ীর ইটভাটা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার ইট লুটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল অনুব্রত মণ্ডল এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামীদের বিরুদ্ধে। শান্তিনিকেতন থানায় এই প্রভাবশালী নেতাসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে রুজু হয়েছে এফআইআর।
অভিযোগকারী স্থানীয় ইটভাটা ব্যবসায়ী শুভেন্দু বিকাশ মণ্ডল। এফআইআর-এর বয়ান অনুযায়ী, ২০২১ সালে বোলপুরে একটি রাজনৈতিক দলীয় কার্যালয় তৈরি করার জন্য অনুব্রত মণ্ডল তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ইটের একটা পয়সাও মেটানো হয়নি। ব্যবসায়ী যখন তাঁর খাতির-খাটুনির পাওনা টাকা ফেরত চাইতে যান, তখন টাকা তো মেলাই দূর অস্ত, উল্টে জোটে অকথ্য গালাগাল এবং প্রাণনাশের হুমকি! তখন পুলিশ-প্রশাসনও এই অসহায় ব্যবসায়ীর আর্তনাদ কানে তোলেনি। অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। ব্যবসায়ী শুভেন্দুবাবুর দাবি, তিনি রাজনৈতিকভাবে বিরোধী শিবির (বিজেপি)-র সমর্থক হওয়ায় এবং অনুব্রত শিবিরের তোলাবাজির দাবি মানতে অস্বীকার করায় তাঁর ওপর চরম প্রতিশোধ নেওয়া হয়। অভিযোগ, ২০২১ সালের নির্বাচনের পর অনুব্রতের নির্দেশেই কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েতের তৎকালীন উপ-প্রধান মামুন শেখের নেতৃত্বে প্রায় ১০০টি ট্রাক্টর নিয়ে একদল দুষ্কৃতী তাঁর ইটভাটায় চড়াও হয় এবং নিমেষের মধ্যে ৩ লক্ষ ইট লুট করে চম্পট দেয়!
ব্যবসায়ীর দাবি, ২০২১ সালেই তিনি এই বিষয়ে শান্তিনিকেতন থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন মদতে সেই ডায়েরি ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে সময় চিরকাল এক থাকে না। রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে, ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। আর প্রশাসন নিরপেক্ষ হতেই অবশেষে শান্তিনিকেতন থানা এই এফআইআর রুজু করতে বাধ্য হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতার অলিন্দ থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর এবং রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বীরভূমের এই ‘কেষ্ট’র পুরনো পাপের ফাইলগুলো যেভাবে একে একে খুলতে শুরু করেছে, তা সত্যিই দেখার মতো। এবার দেখার, এই সুনির্দিষ্ট ইট চুরির মামলার তদন্তে পুলিশ প্রশাসন কতটা কড়া পদক্ষেপ নেয়, নাকি আইনের চাকা আবার রাজনৈতিক কোনো চাদরে থমকে যায়।