প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গরুর পর এবার খোদ ‘ইট’ পিছু ছাড়ছে না বীরভূমের তৃণমূলের বেতাজ বাদশা অনুব্রত মণ্ডলের। সম্প্রতি দলীয় সংগঠনের দায়িত্ব ফিরে পেয়ে যেই না তিনি কোমর বেঁধে ময়দানে নামতে যাবেন, ঠিক তখনই তাড়া করল পুরোনো এক মামলার জুজু! গ্রেপ্তারির চরম আশঙ্কায় এবার রক্ষাকবচ পেতে তড়িঘড়ি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন বীরভূমের এই দাপুটে নেতা। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে দায়ের হয়েছে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন।
আইনি সূত্রের খবর, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার জেরে বোলপুরের কঙ্কালীতলা অঞ্চলের পাথরঘাটার একটি ইটভাটায় ভাঙচুর ও প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুটের অভিযোগ ওঠে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে। এই মামলায় পুলিশি গ্রেপ্তারির হাত থেকে বাঁচতে প্রথমে বীরভূমের সিউড়ি জেলা জজ আদালতে আগাম জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন ‘কেষ্ট’। কিন্তু গত ১ জুলাই আদালত তাঁর সেই আবেদন সটান খারিজ করে দেয়। জেলা আদালতে এই বড় ধাক্কার পরই কার্যত আইনি দিক থেকে ব্যাকফুটে চলে যান তিনি। যে কোনো মুহূর্তে পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিতে পারে, এই চরম আতঙ্ক থেকেই আইনি সুরক্ষার খোঁজে মঙ্গলবার হাইকোর্টের দরজায় কড়া নাড়লেন তিনি।
এই হাইপ্রোফাইল মামলার নেপথ্যে রয়েছেন বোলপুরের ত্রিসুলাপট্টির দীর্ঘদিনের ইট ব্যবসায়ী শুভেন্দুবিকাশ মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, তিনি বিজেপি সমর্থক হওয়ার কারণেই ২০২১ সালে তৃণমূল পুনরায় ক্ষমতায় আসার পরই তাঁর ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেমে আসে। শুভেন্দুবাবুর দাবি, খোদ অনুব্রত মণ্ডলের সবুজ সংকেত বা নির্দেশে কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন উপপ্রধান মামন শেখের নেতৃত্বে প্রায় ২০০ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা নিয়ে তাঁর ইটভাটায় চড়াও হয়। সেখানে শ্রমিকদের মারধর করে তাড়িয়ে নদীর পথ দিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয় এবং বীরভূম জেলা তৃণমূলের কার্যালয় তৈরির নাম করে প্রায় ৩ লক্ষ পিস ইট (যার বাজারমূল্য ৩০ লক্ষ টাকা) সম্পূর্ণ লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্যবসায়ী আরও অভিযোগ করেন, সেই সময় অনুব্রতর রাজনৈতিক দাপটের কারণে পুলিশ প্রশাসন তাঁর কোনো অভিযোগই শোনেনি। উল্টে মুখ খুললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
গত জুন মাসে ব্যবসায়ী শুভেন্দু মণ্ডল শান্তিনিকেতন থানায় অনুব্রত মণ্ডলসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ডাকাতি ও প্রাণনাশের হুমকির মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করেন। এই মামলা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। একদিকে যখন দলনেত্রীর হাত ধরে বীরভূমে ফের স্বমহিমায় রাজনীতির অলিন্দে সক্রিয় হচ্ছিলেন অনুব্রত, ঠিক তখনই ‘ইটভাটা কাণ্ড’ তাঁর নতুন ইনিংসের সামনে বড় পাঁচিল তুলে দাঁড় করাল।আইনজীবীদের একাংশের মতে, জেলা আদালত জামিন না দেওয়ায় অনুব্রতর গ্রেপ্তারির পথ পরিষ্কার ছিল। এখন দেখার, চলতি সপ্তাহেই বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে এই মামলার শুনানি হলে হাইকোর্ট বীরভূমের ‘কেষ্ট’কে স্বস্তি দেয় নাকি তাঁর অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তোলে।