প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনৈতিক মহলে এবার যে সুনামি আসতে চলেছে, তার আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। তবে সেই জল্পনা যে এত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেবে, তা হয়তো অতি বড় রাজনৈতিক বিশ্লেষকও আন্দাজ করতে পারেননি। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ অনুব্রত মণ্ডল (কেষ্ট) এবার ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন বলে জানা যাচ্ছে। তাঁর পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এখন টানটান উত্তেজনা।
অন্দরমহলের খবর, তৃণমূলের বিদ্রোহী অংশকে এক ছাতার তলায় এনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় যে নতুন রাজনৈতিক ফ্রন্ট বা শিবির তৈরি করেছেন, অনুব্রত মণ্ডল সেখানেই যোগ দিচ্ছেন। সূত্রের দাবি, ঋতব্রতবাবুর সঙ্গে অনুব্রতের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ফোনালাপ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে, যেখানে দলবদলের সমস্ত রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন এই সংগঠনে বীরভূমের জেলা সভাপতির রাশ আবারও অনুব্রতের হাতেই তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে খবর।
গত বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই দলের ভেতরের অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছিল। মমতা ও অভিষেকের নেতৃত্বকে অস্বীকার করে ইতিমধ্যেই ৬৪ জন বিধায়ক এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসের মতো শীর্ষস্তরের হেভিওয়েট মন্ত্রী-নেতারা ঋতব্রতের শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় অনুব্রত মণ্ডলের সংযোজন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অস্তিত্বের ওপর এক বিরাট আঘাত।
জনসমক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অনুব্রতের সাম্প্রতিক দূরত্ব এবং নানা বিষয়ে মতবিরোধ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো চলছিলই। সেই সুযোগকেই এবার কাজে লাগালো ঋতব্রত শিবির। একদিকে যখন দলের আসল প্রতীক ও অধিকার নিয়ে আইনি লড়াই তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় অনুব্রতের এই ঐতিহাসিক দলবদল ২০২৬-এর বাংলার রাজনীতিকে কোন ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড় করায়, এখন সেটাই দেখার।