প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বুঝতে পারছেন যে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কতটা চাপে রয়েছেন, এসআইআরের আতঙ্ক তার মধ্যে কিভাবে গ্রাস করেছে। সেই কারণে যখন খুশি, যা খুশি বলে যাচ্ছেন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুব কাছ থেকে দেখা এই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জানেন যে, কিভাবে তাকে টাইট করতে হয়। তাই যতই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিৎকার চেঁচামেচি করছেন, ততই কনফিডেন্ট হয়ে উঠছেন শুভেন্দুবাবু। তিনি নিশ্চিত যে, এবার রাজ্যে পরিবর্তন হবেই। প্রত্যেকটি সভা থেকে এতদিন বিরোধী দলনেতা দাবি করে এসেছিলেন যে, নন্দীগ্রামের মত তিনি ভবানীপুরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করবেন। আর গতকাল এসআইআর যেভাবে চলছে, যেভাবে ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ যাচ্ছে, তাতে অনেকের নাম ভবানীপুর থেকেও বাদ গিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর সেই অবৈধ ভোটারদের ভোট যদি না পায়, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে নিজেও জিতবেন না, এটা ধরে নিয়েই বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হতে হয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে। তারপর ভবানীপুর থেকে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন তিনি। তবে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রত্যেকটি সভা থেকেই শুভেন্দুবাবু দাবি করছেন, এবার ভবানীপুর থেকে দাঁড়ালেও পরাজিত হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তিনি যদি শেষ পর্যন্ত মেটিয়াবুরুজে চলে না যান, তাহলে তাকে ভবানীপুরে তিনি হারিয়ে দেখাবেন বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। গতকাল আবারও সেই কথা বলে মুখ্যমন্ত্রীর দম দেখার চ্যালেঞ্জ করলেন তিনি।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই এসআইআর প্রসঙ্গ নিয়ে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বড় মন্তব্য করেন তিনি। এদিন শুভেন্দুবাবু বলেন, “আপনার দম থাকলে আপনি ভবানীপুরে লড়ুন। আপনাকে যদি হারাতে না পারি, তাহলে আমার নাম শুভেন্দু অধিকারী নয়।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুভেন্দু অধিকারী এই জোরটা পাচ্ছেন অবৈধ এবং ভুয়ো ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কারণে। তিনি খুব ভালো মতই জানেন যে, এই অবৈধ ভোটারদের হাতিয়ার করেই তৃণমূল এতদিন বিভিন্ন আসনে জয়লাভ করে এসেছে। যার মধ্যে রয়েছে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। আর সেই কারণেই সঠিকভাবে এসআইআর হলে এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হলে তৃণমূলের যে চাপ আরও বাড়বে, তা বুঝেই রাজনৈতিক অংক কষে নিয়েই ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো যে কোনো চাপের নয়, তা বুঝিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।