প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে ভোটের আগেই শুরু হয়ে গেল ‘মহাপ্রলয়’! একদিকে যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে কড়া পুলিশি পাহারায়, তখন শাসকদলের নেতাদের জন্য কি তবে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘রাজকীয়’ লাল গালিচা? নৈহাটির এই ঘটনা অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। পুলিশের গাড়িতে সওয়ার হয়ে তৃণমূল নেতার দাদাগিরি— এই নজিরবিহীন দৃশ্য সামনে আসতেই কার্যত কেঁপে উঠেছে নবান্ন থেকে শুরু করে লোকাল থানা। সৌজন্যে? হেভিওয়েট বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং-এর এক বিধ্বংসী ‘ডিজিটাল স্ট্রাইক’!

সম্প্রতি ব্যারাকপুর মহকুমা শাসকের (SDO) অফিসের সামনে ঘটে এক নাটকীয় ঘটনা। দেখা যায়, নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা অশোক চট্টোপাধ্যায় দাপটের সঙ্গে একটি পুলিশের স্টিকার লাগানো সরকারি গাড়ি থেকে নামছেন। উল্লেখ্য, এই গাড়িটি নৈহাটি থানার আইসি-র জন্য বরাদ্দ। আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) জারি থাকা অবস্থায় যখন খোদ পুলিশি নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন কোন জাদুবলে একজন রাজনৈতিক নেতা পুলিশের নিরাপত্তা এবং সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় যোগ দেন, তা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।

অর্জুন সিং কেবল অভিযোগ করেই ক্ষান্ত হননি; তিনি সরাসরি ভিডিওটি নির্বাচন কমিশনের দরজায় আছড়ে ফেলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল স্পষ্ট— “অভ্যাস বড় বালাই! পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চেষ্টা করলেও তৃণমূলের ক্যাডার হিসেবে কাজ করার পুরনো রোগ তারা ছাড়তে পারছে না।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, এই গাড়িতে বসেই কি তবে ভোটের দিন এলাকা দখলের গোপন ছক কষা হচ্ছিল?

অর্জুন সিং-এর এই মরণকামড় বিফলে যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কমিশন এক মুহূর্ত দেরি করেনি। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত নৈহাটি থানার আইসি (IC) মহাবীর বেরাকে নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের দায়ে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই কড়া পদক্ষেপের পর ব্যারাকপুরের পুলিশ মহলে এখন চরম হাহাকার। সূত্রের খবর, এক লহমায় যেন শাসকদলের সাজানো ‘গেম প্ল্যান’ তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল।

নৈহাটির এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো শুরু হয়েছে— মহাবীর বেরা তো মাত্র শুরু, এরপর কার পালা? অর্জুন সিং-এর এই ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ আর সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন যে শাসকদলের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। পুলিশের ছত্রছায়ায় ভোট বৈতরণী পার হওয়ার যে ‘সেফ গেম’ এতদিন ধরে চলছিল, কমিশনের এই চরম দাওয়াই কি তাতে শেষমেশ ইতি টানবে?উত্তর দেবে সময়। তবে ব্যারাকপুরের এই লড়াই যে এবার হাড়হিম করা হতে চলেছে, তা আজকের এই ঘটনায় আরও একবার পরিষ্কার হয়ে গেল।