প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবল রাজপুত্র লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কিত মামলার তদন্তে চূড়ান্ত গতি বাড়াল বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার অগ্রগতি সংক্রান্ত ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেওয়ার ঠিক প্রাক্কালে, আজ প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ডেকে পাঠিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করলেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। আজ সকাল ১০টা নাগাদ নিজের আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় পৌঁছান তৃণমূলের এই প্রভাবশালী নেতা। সেখানে প্রায় ২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁকে ম্যারাথন জেরা করা হয়।উল্লেখ্য, গত বছর যুবভারতীতে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসির মেগা ইভেন্টকে কেন্দ্র করে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসে। যার মধ্যে অন্যতম ছিল বড়সড় নিরাপত্তা লঙ্ঘন। অভিযোগ, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী স্বয়ং সমস্ত আন্তর্জাতিক প্রোটোকল ভেঙে মাঠে নেমে মেসির নিরাপত্তা বলয় বিঘ্নিত করেন এবং সেলফি তোলার চেষ্টা করেন। সেই সময় তৈরি হওয়া চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে মেসির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো ডি’পল আঘাত পান বলেও অভিযোগকারীর দাবি।

পাশাপাশি, এই আন্তর্জাতিক ইভেন্টের সাথে জড়িয়েছে বিপুল অঙ্কের টিকিট কেলেঙ্কারির অভিযোগও। অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত সরাসরি দাবি করেছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী প্রায় ২২ হাজার টিকিট হাতিয়ে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেই টিকিটগুলি চড়া দামে কালোবাজারি করা হয়। এই মর্মে আর্থিক জালিয়াতি, জবরদস্তি ও তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

শতদ্রু দত্তের বিস্ফোরক দাবি ছিল, যুবভারতীর অনুষ্ঠানটিকে কার্যত ‘ব্যক্তিগত সম্পত্তি’ বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। ভিভিআইপি পাস ও টিকিট বণ্টন নিয়ে তৎকালীন মন্ত্রীর দফতর থেকে নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি টিকিট না দিলে অনুষ্ঠান ভণ্ডুল বা বাতিল করে দেওয়ার মতো প্রচ্ছন্ন হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে যে, ওই ২২ হাজার টিকিট কাদের দেওয়া হয়েছিল এবং এর পেছনে কোনও বড় আর্থিক লেনদেন বা কালোবাজারি চক্র সক্রিয় ছিল কি না।

এর আগে তিনবার পুলিশের নোটিস এড়ালেও, কলকাতা হাইকোর্টের কড়া অবস্থান এবং তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশের পর এই নিয়ে চতুর্থবার পুলিশি জেরার মুখোমুখি হলেন অরূপ বিশ্বাস। হাইকোর্টে রিপোর্ট পেশের ঠিক তিন দিন আগে প্রাক্তন মন্ত্রীর এই জেরা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও নজিরবিহীন শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, আন্তর্জাতিক স্তরের একজন ফুটবল তারকার নিরাপত্তা নিয়ে যেভাবে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে এবং টিকিট নিয়ে যে জালিয়াতি হয়েছে, তার নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

আগামী ১০ জুলাই এই হাইপ্রোফাইল মামলার তদন্তের স্ট্যাটাস রিপোর্ট আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে পুলিশের। আইনজীবীদের মতে, বিধাননগর থানার পুলিশ কলকাতা হাইকোর্টে যে রিপোর্ট জমা দেবে, তার ওপরই নির্ভর করছে এই মামলার ভবিষ্যৎ। যদিও আদালতের রক্ষাকবচ থাকায় আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেফতারি করতে পারবে না পুলিশ। তবে পুলিশের রিপোর্টে যদি নতুন কোনও তথ্য বা অসহযোগিতার প্রমাণ মেলে, তবে আগামী দিনে প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনি অস্বস্তি যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।