প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ইতিমধ্যেই বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেছেন। তবে তিনি যেদিন সেই শিলান্যাস করেছিলেন, সেদিন যেভাবে সেখানে পুলিশ প্রশাসন মোতায়েন করে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার বক্তব্য ছিলো, তৃণমূল লোক দেখানো সাসপেন্ড করেছে। কিন্তু আসলে তৃণমূলের পক্ষ থেকেই এই হুমায়ুন কবীর আসল খেলাটা খেলছেন। আর এবার ভোটের আগে সেই হুমায়ুন কবীর যে বাবরি মসজিদ শিলান্যাসের কথা বলছিলেন, তার আনুষ্ঠানিক নির্মাণ কার্য আগামী বুধবার শুরু হবে বলেই জানিয়ে দিয়েছেন। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে, একেই তো সামনে নির্বাচন। তার মধ্যে এই ধরনের প্রক্রিয়া যদি তিনি শুরু করেন, তাহলে যদি আবার পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে, তাহলে কি হবে? আর সেই ব্যাপারেই আজ পাল্টা প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দিলেন হুমায়ুন কবীর। যাকে কেন্দ্র করে রীতিমত সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি।
২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ক্রমশ খবরের শিরোনামে উঠে আসছেন হুমায়ুন কবীর। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর নতুন দল গঠন করেছেন তিনি। এমনকি যে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস নিয়ে এত জলঘোলা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেই বাবরি মসজিদের শিলান্যাস পর্যন্ত তিনি করে ফেলেছেন। যার ফলে পাল্টা বিজেপির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, বাবরের নামেই কেন মসজিদ হবে? এমনকি যেদিন এই শিলান্যাস প্রক্রিয়া হয়েছে, সেদিন যেভাবে পুলিশ তাকে সহযোগিতা করেছে, তা নিয়েও সোচ্চার হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর এই পরিস্থিতিতে আগামী বুধবার ১২০০ কন্ঠে কোরান পাঠের পর সেখানে সেই মসজিদের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা। তবে অনেকের আশঙ্কা রয়েছে, কিছুদিন আগেই যেভাবে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিলো, তাতে এইভাবে বাবরের নামে মসজিদ তৈরি করার আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হওয়ার দিনে যদি আবার আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়, তখন কি হবে? তবে যারা এই অশান্তি করতে আসবে, তাদের পাল্টা প্রতিরোধ করতেও যে তাদের দ্বিধা থাকবে না, তা বুঝিয়ে দিলেন হুমায়ুন কবীর।
এদিক সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন হুমায়ুন কবীর। আর সেখানেই তিনি বলেন, “রাজ্যের প্রশাসন আছে, দেখবে। আর আমাদের যে ট্রাস্ট এবং স্থানীয় মুসলমানদের যে জনবসতি আছে, তারাই এনাফ। এই ধরনের যে কোনো প্রতিরোধকে রক্ষা করার মত ক্ষমতা মুর্শিদাবাদের আমজনতার রয়েছে। কেউ যদি আমাদের পাথর ছোড়ে, আমরা তাকে রসগোল্লা ছুড়বো না।”