প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের মাঝেই দক্ষিণ দিনাজপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্য। বালুরঘাট কলেজের স্ট্রংরুমে রাখা ইভিএম-এর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলো শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ, মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত টানা কয়েক ঘণ্টা কাজ করেনি স্ট্রংরুম চত্বরের সিসিটিভি ক্যামেরা। স্পর্শকাতর এই চার ঘণ্টা নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য।
বালুরঘাট কলেজের এই স্ট্রংরুমে বালুরঘাট, তপন, কুমারগঞ্জ এবং গঙ্গারামপুর— এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম (EVM) কড়া পাহারায় রাখা হয়েছে। তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের ইলেকশন এজেন্ট দেবাশীষ কর্মকারের দাবি, মঙ্গলবার রাত ৩ টে থেকে বুধবার সকাল ৭টা পর্যন্ত— অর্থাৎ প্রায় ৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ফুটেজ বন্ধ ছিল। মনিটরে কোনো ছবি দেখা যায়নি এবং কোনো রেকর্ডিং হয়নি। ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জেলা শাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। দেবাশীষ কর্মকারের অভিযোগ, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সিসিটিভি বন্ধ থাকা সাধারণ কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ নাও হতে পারে। এর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা শাসক বালা সুব্রমানিয়ান টি নিজে স্ট্রংরুম পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে এলাকায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়েছিল। মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেই সিসিটিভি সিস্টেমে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। তবে ইভিএমের নিরাপত্তায় কোনো আপস করা হয়নি বলে দাবি প্রশাসনের।
ইতিমধ্যেই বিকল ক্যামেরাগুলি মেরামত করে পুনরায় চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর কমেনি। স্ট্রংরুমের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারা বজায় রয়েছে। নজরদারি বাড়াতে সিসিটিভি ব্যবস্থার আরও আধুনিকীকরণের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ভোটের রেজাল্ট বেরোনোর আগে স্ট্রংরুমের এই ‘অন্ধকার’ সময় রাজনৈতিক লড়াইকে আরও কতটা তপ্ত করে, সেটাই এখন দেখার।