প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের বাংলাপ্রেমী দল হিসেবে দাবি করার চেষ্টা করে। আর সবথেকে বেশি তারা দাবি করে যে, বিজেপি একটি বাংলা বিরোধী দল। তারা বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে অবগত নয়। তারা যদি ক্ষমতা দখল করে, তাহলে নাকি বাঙ্গালীদের গুজরাটের হয়ে দাসত্ব করতে হবে। ইত্যাদি অনেক কথা তৃণমূল নেতাদের মুখ থেকে শোনা যায়। এমনকি তৃণমূলের সুবিধা করে দিয়ে কিছু বামপন্থী মানুষ, তারাও বলার চেষ্টা করে যে, বিজেপি হচ্ছে বাংলার জন্য কোনো কাজ করে না। তারা আদ্যপ্রান্ত একটি বাংলা বিরোধী দল। কিন্তু এই বিজেপির শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন জন্যই যে পশ্চিমবঙ্গ হয়েছে, তা হয়ত অনেকেই ভুলে গিয়েছেন। শুধু তাই নয়, যে বিজেপিকে তৃণমূল সহ একটা অংশের মানুষ বাংলা বিরোধী বলে দাবি করে, সেই বিজেপি বাংলার গর্ব নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্য কি কাজ করেছে? প্রকাশ্যে সেই কথা উল্লেখ করে বিজেপির থেকে বড় বাংলাপ্রেমী দল যে আর নেই, তা বুঝিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামছে সাধারণ জনতা। বিজেপি এবং শুভেন্দু অধিকারীর ওপর ভরসা রাখছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা এই রাজ্যের একটা বড় অংশের মানুষ। যার ফলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এবার রাজ্যে পট পরিবর্তনের একটা যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল একটা ওয়েদার তৈরি করার চেষ্টা করছে যে, বিজেপি হচ্ছে বাংলা বিরোধী দল। বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে অবগত নয়। কিন্তু সমালোচকদের মুখে ঝামা ঘষে দিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা যে কথা বলে দিলেন, তারপর এই কাজ করার ক্ষমতা যে অন্য কারও হয়নি, একমাত্র নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেই যে তিনি বাংলা ও বাঙালিদের আবেগকে মর্যাদা দিয়ে এই কাজ করে দেখিয়েছেন, তা সকলেই প্রায় স্বীকার করে নিচ্ছেন।

গতকাল মেমারিতে পরিবর্তন সংকল্প যাত্রার সভায় বক্তব্য রাখেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর তারপরেই সাংবাদিকরা তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। যেখানে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ জহর সরকার তৃণমূলের পাশাপাশি বিজেপিরও নিন্দা করেছেন, এমন কথা উঠে আসে। আর তার পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলা ও বাঙ্গালীদের জন্য যে সব থেকে বড় অবদান বিজেপি রেখেছে, তা স্পষ্ট করে দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, “বিজেপি পার্টিটা বাঙ্গালীদের পার্টি। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী তৈরি করেছেন। আর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে মর্যাদা বিজেপির সরকার দিয়েছে। নরেন্দ্র মোদী দিয়েছে। কংগ্রেসের সরকার দেয়নি।” অর্থাৎ যারা বাংলায় থেকে ২০২৬ এর নির্বাচনের আগে বিরোধী ভোটকে বিচ্ছিন্ন করে তৃণমূলকে সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশ্যেই বিজেপি বাংলার জন্য ঠিক কি অবদান রেখেছে, তা স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।