প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ডিজিটাল ভারতের যুগে এবার ডিজিটাল পরিষেবায় নজির গড়ল উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ। সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে এবং প্রশাসনিক কাজকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে। এবার থেকে আর বিধায়কের শংসাপত্র বা সার্টিফিকেটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না। বাড়িতে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে মাত্র এক ক্লিকেই মিলবে বিধায়কের ডিজিটাল শংসাপত্র। বনগাঁর বাসিন্দাদের জন্য এই অভিনব অনলাইন পোর্টাল পরিষেবার শুভ সূচনা করলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত সমবায় ও খাদ্যমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া। মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই তাঁর প্রশাসনিক ব্যস্ততা এবং কলকাতায় যাতায়াত অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। কলকাতা এবং নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র— দুই জায়গার কাজের চাপ সামলে যাতে নিজের এলাকার আমজনতার কোনো সমস্যা না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই আধুনিক পোর্টালের চিন্তাভাবনা। এই বিষয়ে মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া জানান, “দল এবং শুভেন্দু অধিকারী আমাকে মন্ত্রী করায় এখন আমাকে কলকাতায় বেশি সময় দিতে হবে, তাই হয়তো বিগত দিনগুলির মতো বনগাঁ উত্তরে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া সম্ভব হবে না। তবে আমার অনুপস্থিতিতে যাতে এলাকার মানুষের কোনো কাজ আটকে না থাকে এবং পরিষেবায় কোনো ঘাটতি না হয়, তার জন্যই এই ডিজিটাল ব্যবস্থা। মানুষ যাতে সময় ও অর্থ ব্যয় করে বিধায়কের কার্যালয়ে না এসে ঘরে বসেই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পান, সেই লক্ষ্যেই এটি চালু করা হয়েছে। অনেকেই ইতিমধ্যে এই পোর্টালে আবেদন করে সার্টিফিকেট পেতেও শুরু করেছেন।”

পোর্টাল কর্তৃপক্ষ ও বিধায়ক কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে অত্যন্ত সহজ পদ্ধতিতে নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন। বনগাঁ উত্তর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দাদের সার্টিফিকেট পেতে হলে সরাসরি micashokkirtania.com পোর্টালে লগ-ইন করতে হবে। পোর্টালে নির্দিষ্ট কোয়ারিজ ফর্ম পূরণ করার পাশাপাশি আবেদনকারীকে তাঁর আধার কার্ড কিংবা ভোটার কার্ড আপলোড করতে হবে। পরিচয়পত্র যাচাই করার জন্য পোর্টালে বিশেষ ভেরিফিকেশন অপশন রাখা হয়েছে। অনলাইন ফর্ম এবং নথিপত্র জমা পড়ার পর তা কার্যালয় থেকে ভেরিফাই করা হবে। সমস্ত তথ্য সঠিক থাকলে আবেদনের মাত্র একদিনের (২৪ ঘণ্টা) মধ্যেই আবেদনকারী তাঁর ডিজিটাল সার্টিফিকেট ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

প্রাথমিকভাবে এই পোর্টালের মাধ্যমে মূলত চার ধরনের অত্যন্ত জরুরি সরকারি ও প্রশাসনিক সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করা যাবে: ১) আবাসিক শংসাপত্র (Residential Certificate) ২) সিএএ-এর জন্য বিশেষ আবাসিক শংসাপত্র (Residential Certificate for CAA) ৩) আয় সংক্রান্ত শংসাপত্র (Income Certificate) ৪) বাণিজ্যিক শংসাপত্র (Trade Certificate)। ডিজিটাল প্রযুক্তির এই সঠিক ও জনমুখী ব্যবহারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বনগাঁ উত্তর বিধানসভার সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে ওয়াকিবহাল মহল। ঘরে বসে মাত্র ১ দিনে বিধায়কের ডিজিটাল সার্টিফিকেট পাওয়ার এই আধুনিক ও যুগান্তকারী পরিষেবা চালু হওয়ায় খুশির হাওয়া গোটা বনগাঁ জুড়ে।