প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট মিটতেই বঙ্গ রাজনীতিতে কার্যত ‘অসম্ভব’কে সম্ভব হওয়ার দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ নিউটাউনের একটি হোটেলে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে শাহের গলায় শোনা গেল এক নজিরবিহীন তৃপ্তির সুর। কয়েক দশক ধরে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছিল ‘রক্তপাত’ ও ‘হিংসা’। কিন্তু এবারের লড়াইয়ের শুরুতেই সেই মিথ ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করলেন তিনি।

প্রথম দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর শাহ বলেন, “প্রথম দফায় যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের অভিনন্দন। আপনারা ভয় থেকে ভরসার দিকে যাত্রা খুব ভালো ভাবে শুরু করেছেন।” তাঁর এই মন্তব্যের নেপথ্যে থাকা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গভীর। শাহ আজ স্পষ্ট করে দিলেন, এবারের বিধানসভা নির্বাচন সেই ভয়ের পরিবেশ থেকে মুক্তির লড়াই, যেখানে ভোটাররা নিশ্চিন্তে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন।

শাহের বক্তব্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে তাঁর দরাজ সার্টিফিকেট। তিনি বলেন, “বহু যুগ পরে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে কোনো মৃত্যু হয়নি।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের প্রথম দফায় বড় ধরনের প্রাণহানির খবর না মেলাটা এক বিরাট ঘটনা।
শাহ এই সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন: কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সক্রিয়তা, নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি এবং রাজ্য পুলিশের সম্মিলিত সহযোগিতায়।

প্রথম দফার এই ‘শান্তিপূর্ণ’ মেজাজকে হাতিয়ার করে দ্বিতীয় দফার ভোটারদের কাছেও বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন শাহ। তিনি মনে করেন, এই যাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এখন পরবর্তী দফার ভোটারদের। সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর শরীরী ভাষা বুঝিয়ে দিচ্ছিল, প্রথম দফার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বিজেপি বাংলায় বড় পরিবর্তনের আশা করছে।

অমিত শাহের এই দাবি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া এই তথ্য ও পরিসংখ্যানকে সামনে রেখেই আগামী দফার ভোটগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনী আরও কড়া ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কোনো রকম উস্কানি বা ভুল তথ্য ছাড়াই শাহ আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বাংলার ভোটচিত্র বদলাতে শুরু করেছে।