প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- যেখানে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে গোটা বিষয়টি, তারপরেও যেভাবে বাবরের নামে আজকে পশ্চিমবঙ্গে মসজিদে শিলান্যাস হয়ে গেল, তাতে সকলেই প্রশ্ন তুলছেন, সত্যিই কি এই বাংলা ভবিষ্যতে সুরক্ষিত থাকবে? সত্যিই কি এখানে ভবিষ্যতে হিন্দুরা শান্তিপূর্ণভাবে বাস করতে পারবে তৃণমূল সরকারের আমলে? এমনিতেই বারবার করে প্রশ্ন উঠেছে রাজ্যে হিন্দু সনাতনীদের নিরাপত্তা নিয়ে। আর তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড করার পর যেভাবে হুমায়ুন কবীর সেই বাবরি মসজিদে শিলান্যাস করলেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি প্রশ্ন তুলছে যে, এটা তৃণমূলের গটআপ গেম নয় তো? দল থেকে সাসপেন্ড করে দিয়ে দূরত্ব তৈরি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই তার দলের বহিষ্কৃত বিধায়ককে প্রশ্রয় দিলেন না তো? তবে যে কারও নামে মসজিদ হলেও, বাবরের নামে মসজিদ যে মেনে নেওয়া যায় না, তা গতকালই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজ আবারও সেই কথা বলে সোচ্চার হলেন তিনি।

সম্প্রতি খবরের শিরোনামে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস। তৃণমূলের থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পরেও এই শিলান্যাস যে তিনি করবেন, তা জানিয়ে দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। আর প্রথমদিকে তাতে প্রশাসন সহযোগিতা করবে কিনা, প্রশ্ন উঠলেও শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের টহলদারিতে এই প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে যে, বাইরে দেখানো হচ্ছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে যে, তারা হুমায়ুন বাবুর সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে না, কিন্তু তলায় তলায় প্রশাসন যেভাবে সহযোগিতা করছে, তাতে কি তাকে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে শাসক দলের পক্ষ থেকে? তারা কি ভোট ভাঙানোর রাজনীতি শুরু করেছে? আর এসবের মধ্যেই আজ বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের মাঝেই তার নামকরণ নিয়ে আরও একবার প্রশ্ন তুলে গর্জে উঠলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।

এদিন পুরশুড়ায় একটি ফুটবল কাপের সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই বাবরি মসজিদের যে নামকরণ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে আরও একবার প্রশ্ন তুলে দেন তিনি। শুভেন্দুবাবু বলেন, “আমি আজকে বলব, বাবরের নামে মসজিদের শিলান্যাস কেন পুলিশ বিনা অনুমতিতে পাঁচ কাঠার ওপর শিলান্যাস করতে দিচ্ছে? কারনটা কি? এখনও হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে মুর্শিদাবাদ জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন আছে। আমাদের মসজিদ নিয়ে কোনো আপত্তি নেই। এক হাজারটা বানান। কিন্তু বাবরের নাম নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে। আজকে প্রমাণ হয়ে গেল মমতা ব্যানার্জি কত বড় তোষণবাজ, কত বড় হিন্দু বিরোধী, কত বড় ভারতীয় সংস্কৃতি বিরোধী। তিনি মোগল, পাঠান যারা হানাদার, তাদের নামে সুপ্রিম কোর্ট যেটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এটা তো সরাসরি সুপ্রিম কোর্টকে চ্যালেঞ্জ হলো।”