প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শেষ হলো ২০২৬-এর মেগা লড়াই। গতকাল পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় তথা অন্তিম দফার ভোটগ্রহণ পর্ব মিটতেই গোটা দেশের নজর এখন বাংলার দিকে। কিন্তু ভোট মিটতেই ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার যে পরিসংখ্যান ও মন্তব্য সামনে আনলেন, তাতে রীতিমতো রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে অনেক সমীকরণই উল্টে যেতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় বাংলায় ভোটদানের হার ছাড়িয়ে গিয়েছে ৯২.৬%। দুই দফা মিলিয়ে রাজ্যের গড় ভোটদান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯২.৯%। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে এটাই সর্বোচ্চ ভোটদানের হার।
ভোট শেষে জ্ঞানেশ কুমার বাংলার ভোটারদের কুর্নিশ জানিয়ে বলেন, “Chunav ka Parv, Paschim Bengal ka Garv”। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে এক বিশেষ ইঙ্গিত। তিনি জানান, ভোটাররা যে বিপুল সংখ্যায় ঘর থেকে বেরিয়ে এসে নির্ভয়ে ভোট দিয়েছেন, তা গণতন্ত্রের এক অনন্য জয়। বিশেষত, সন্ধ্যা ৬টার পরেও বুথের বাইরে দীর্ঘ লাইন দেখে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন—যতক্ষণ একজন ভোটারও লাইনে থাকবেন, ততক্ষণ ভোটগ্রহণ চলবে।
বিজেপি শিবিরের মতে, যখনই রাজ্যে ভোটদানের হার এভাবে আকাশছোঁয়া হয়, তখন তা সাধারণত প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ার (Anti-Incumbency) প্রতিফলন বলে ধরা হয়। মানুষ যখন পরিবর্তনের সংকল্প নিয়ে বুথমুখী হয়, তখনই বুথের বাইরে এমন জনজোয়ার দেখা যায়। জ্ঞানেশ কুমারের ‘নির্ভয় ভোটদানের’ মন্তব্যকে গেরুয়া শিবির নিজেদের নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে। তাদের দাবি, মানুষ আর ভয় না পেয়ে বুথে আসায় এই রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
যদিও নির্বাচন কমিশন সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের জয়ের ইঙ্গিত দেয়নি, তবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সন্তোষ প্রকাশ এবং এই ‘ভোট বিপ্লব’ নিশ্চিতভাবেই শাসক শিবিরের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। ৪ ঠা মে ফলাফল ঘোষণার দিনই স্পষ্ট হবে, বাংলার এই ‘রেকর্ড ভোট’ কার ভাগ্য খুলে দিল আর কার পায়ের তলার মাটি সরিয়ে দিল।