প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, বাংলার রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। খড়গপুর সদর আসনের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রচারের ময়দানে নেমে এবার সরাসরি ‘বুলডোজার’ হুঁশিয়ারি দিলেন দিলীপ ঘোষ। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কায়দায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার অপরাধী ও দুর্নীতিগ্রস্তদের ডেরা গুঁড়িয়ে দিতে পিছপা হবে না বিজেপি।
নিজের গড় খড়গপুরে এক নির্বাচনী সভায় দিলীপ ঘোষ উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ টেনে বলেন, “উত্তরপ্রদেশে গুণ্ডা-মাফিয়াদের যে হাল হয়, বাংলায় তার চেয়েও খারাপ অবস্থা হবে।” নিচুতলার তৃণমূল নেতাদের নিশানা করে তিনি আরও যোগ করেন, “যাঁরা টাকা কামিয়েছেন, এখন খেয়ে-দেয়ে মস্তি করে নিন। কারণ ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর এ রাজ্যেও বুলডোজার চলবে, কেউ বাঁচাতে পারবে না।”
এদিন দিলীপ ঘোষের আক্রমণ থেকে বাদ যাননি তৃণমূলের স্থানীয় নেতা এবং পুলিশ আধিকারিকরাও। তাঁর চিফ এজেন্টকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “মায়ের ব্যাটা হয়ে থাকলে ৪ তারিখের পর কোথায় থাকবি, সেটা এখন থেকে ভাব।” নিচুতলার পুলিশদের ‘লাফালাফি’ নিয়ে সতর্ক করে তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে তাঁদের জন্য ‘খারাপ সময়’ আসছে। বিদ্রুপের সুরে তিনি তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “দরকার হলে বিহার বা ওড়িশায় ঘর ভাড়া করিয়ে দেব, কিন্তু বাংলায় আর জায়গা হবে না।”
এই সমস্ত কথা বলে দিলীপ ঘোষ আসলে মেরুকরণের রাজনীতি এবং কড়া শাসনের বার্তা দিতে চাইছেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে খড়গপুরে ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া (SIR ইস্যু) নিয়ে উত্তাপ বাড়ছে। এর মধ্যেই দিলীপ ঘোষের এই “ইঞ্চি সাইজের তৃণমূল নেতা” এবং “বুলডোজার” মন্তব্য ভোটের আগে ঘি ঢালল আগুনে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যকে ‘অগণতান্ত্রিক’ এবং ‘হিংসায় উসকানি’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, নির্বাচনে হার নিশ্চিত বুঝেই দিলীপ ঘোষ এখন গুণ্ডামি ও বুলডোজারের ভয় দেখাচ্ছেন। বাংলার সংস্কৃতিতে এই ধরনের রাজনীতির কোনো স্থান নেই।