প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর বঙ্গ জয়ের লড়াইতে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ বিজেপি। ঘাসফুল শিবিরের দুর্ভেদ্য দুর্গ ভাঙতে আজ সরাসরি ময়দানে নামছেন গেরুয়া শিবিরের প্রধান সেনাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ, শুক্রবার সকালেই বিশেষ বিমানে কলকাতা বিমানবন্দরে পা রাখছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, শাহের এই সফর কেবল একটি প্রচার কর্মসূচি নয়, বরং তৃণমূল সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত ‘মাস্টারস্ট্রোক’।
বিমানবন্দর থেকে অমিত শাহ সোজা চলে যাবেন নিউটাউনের একটি অভিজাত হোটেলে। সেখানেই আজ পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিজেপির বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনী ইস্তেহার বা ‘সংকল্পপত্র ২০২৬’ প্রকাশ করবেন তিনি। সূত্রের খবর, এই সংকল্পপত্রে এমন কিছু জনমোহিনী প্রকল্পের ঘোষণা থাকতে পারে যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এক লহমায় বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে নারী সুরক্ষা, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং রাজ্যে নতুন শিল্পায়নের ব্লু-প্রিন্ট এই দস্তাবেজে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এই ‘সংকল্পপত্র’ আসলে সোনার বাংলা গড়ার এক গ্যারান্টি কার্ড।
কলকাতার কর্মসূচি শেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেলিকপ্টারে উড়ে যাবেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায়। সেখানে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। ডেবরা থেকে তিনি কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য। এরপর বিকেলের পড়ন্ত রোদে খড়গপুর সদরে শুরু হবে শাহের মেগা রোড-শো। খড়গপুরের রাজপথ আজ গেরুয়া আবিরে ঢাকা পড়তে চলেছে। কর্মী-সমর্থকদের উদ্দীপনা দেখে মনে করা হচ্ছে, এই রোড-শো গত কয়েক বছরের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেবে।
তবে সারাদিনের প্রচার শেষে আজ রাতেই হতে চলেছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। খড়গপুরে দলীয় জেলা নেতৃত্ব এবং বাছাই করা কিছু দুঁদে রণকৌশলী কর্মীদের নিয়ে এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বসবেন অমিত শাহ। সূত্রের খবর, এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকেই ঠিক হবে শেষ মুহূর্তের ‘বুথ ম্যানেজমেন্ট’ এবং বিরোধীদের মোকাবিলা করার চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট। রাতের এই গোপন বৈঠকের সিদ্ধান্তই আগামী কয়েক দিনের ভোটের গতিপথ ঠিক করে দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সব মিলিয়ে, অমিত শাহের আজকের এই সফর ঘিরে উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। বিরোধীদের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়ে আজ কি সত্যিই বাংলার মসনদ দখলের কোনো ‘গোপন সিন্দুক’ খুলবেন তিনি? উত্তর মিলবে আজ বিকেলেই।