প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একদিকে উত্তরপ্রদেশে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মেগা উদ্বোধন, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের অন্তিম তথা ভাগ্যনির্ধারণী লড়াকু মেজাজ— বুধবার এই দুইয়ের মেলবন্ধনে কার্যত রাজনীতির পারদ চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উত্তরপ্রদেশের মাটি থেকে বাংলার হাই-ভোল্টেজ ভোট নিয়ে মোদী আজ যা বললেন, তাতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
বুধবার উত্তরপ্রদেশের হারদোইয়ের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বাংলার ভোটারদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি সাফ জানান, “পশ্চিমবঙ্গে আজ গণতন্ত্রের জয়গান শোনা যাচ্ছে। গত ছয়-সাত দশকে যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, আজ বাংলায় সেটাই বাস্তব। মানুষ কোনো ভয় ছাড়াই বুক ফুলিয়ে বুথে যাচ্ছেন।” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া লম্বা লাইনের ছবিই বলে দিচ্ছে যে বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের সংকল্প নিয়ে পথে নেমেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর আজকের বক্তৃতায় ‘ভয়মুক্ত বাতাবরণ’ শব্দবন্ধটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কয়েক দশক ধরে বাংলার ভোটে হিংসার যে অভিযোগ বারবার উঠেছে, মোদী আজ বুঝিয়ে দিলেন যে এবারের কড়া নিরাপত্তা ও নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা ভোটারদের মনে সাহস জুগিয়েছে। মোদী বলেন, “বাংলার মহান জনতা আজ নিজেদের অধিকার নিয়ে সজাগ। বিপুল ভোটদানই প্রমাণ করে যে গণতন্ত্র এখানে পুণ্য প্রতীকের মত শক্তিশালী।”
আজ বাংলার ১৪২ টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। ঠিক এই সময়ে উত্তরপ্রদেশের সরকারি মঞ্চ থেকে বাংলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মোদীর এক সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তিনি বলেন, “ভোট শেষ হতে এখনও কয়েক ঘণ্টা বাকি। আমি বাংলার ভাই-বোনদের কাছে আবেদন করব, আপনারা রেকর্ড সংখ্যায় ভোট দিয়ে গণতন্ত্রকে মজবুত করুন।”
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুথে বুথে মানুষের ভিড় বাড়ছে। দুপুর পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান আসছে, তা রীতিমত নজিরবিহীন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ‘ভয়মুক্ত’ এই ভোটদান দেশের সংবিধানের জন্য এক বড় জয়।
গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করলেও মোদীর লক্ষ্য যে বাংলার মসনদ, তা আজ তাঁর প্রতিটি শব্দে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ৪ মে-র ফলাফলই বলবে, প্রধানমন্ত্রীর এই দাবির প্রতিফলন ব্যালট বক্সে কতটা পড়ল।