প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
ভোটের মুখে রাজ্য প্রশাসনে নজিরবিহীন ডামাডোল। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে একঝাঁক আইএএস (IAS) আধিকারিক বদলি হলেও, তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি বাসভবন বা বাংলো নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম জটিলতা। অভিযোগ উঠেছে, বিদায়ী জেলাশাসকদের একাংশ এখনও তাঁদের সরকারি বাংলো ছাড়েননি, যার ফলে বিপাকে পড়েছেন নতুন দায়িত্ব নেওয়া আধিকারিকরা। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন দানা বাঁধছে হাজারো প্রশ্ন—কেন এই বাংলো-মোহ? সূত্রের খবর, সম্প্রতি দায়িত্ব পাওয়া বেশ কয়েকজন নতুন জেলাশাসক রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরে একটি অভাবনীয় অভিযোগ জানান। তাঁদের দাবি, কাজে যোগ দিলেও নির্দিষ্ট সরকারি বাসভবন খালি না পাওয়ায় তাঁরা প্রশাসনিক কাজ পরিচালনায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই অভিযোগ শুনে কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরাও রীতিমত বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী বদলি হওয়ার সাথে সাথেই পুরনো আধিকারিকদের বাংলো ছেড়ে দেওয়ার কথা, কিন্তু এখানে যেন তার উল্টো ছবি। এই ঘটনা ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা।

বিরোধী শিবিরের একাংশের প্রশ্ন, এই দীর্ঘসূত্রিতার নেপথ্যে কি অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে? সরকারি বাংলোর ভেতর কি এমন কোনো ‘বিশেষ’ নথি বা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল রয়েছে যা সরাতেই এই বাড়তি সময় নেওয়া হচ্ছে? যদিও এই দাবির পক্ষে কোনো সরাসরি প্রমাণ মেলেনি, তবুও ভোটের আবহে জেলাশাসকদের মত গুরুত্বপূর্ণ পদের আধিকারিকদের এই আচরণ নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে জনমানসে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আর সময় নষ্ট করেনি কমিশন।

কড়া পদক্ষেপ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে , আগামী ২২ মার্চের মধ্যে সমস্ত বিদায়ী জেলাশাসককে তাঁদের বাংলো খালি করে দিতে হবে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো খামতি না রাখতে কমিশন এই কড়া অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, কমিশনের এই চূড়ান্ত ডেডলাইনের পর জেলাশাসকদের বাংলো-জট কাটে কি না। তবে এই ঘটনা যে রাজ্যের আমলা মহলে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।