প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনার বরানগর। শনিবার সন্ধ্যায় গোপাল লাল ঠাকুর রোড এলাকায় বিজেপি এবং তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিজেপির অভিযোগ, তাঁদের লাগানো নির্বাচনী হোর্ডিং ও ফ্লেক্স গায়ের জোরে খুলে ফেলে সেখানে তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টার লাগানো হচ্ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় র‍্যাফ (RAF) নামাতে হয়। বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষের দাবি, গত ২-৩ দিন ধরে ওই এলাকায় বিজেপির হোর্ডিং ও ব্যানার লাগানো ছিল। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় তৃণমূল আশ্রিত কিছু লোক সেইসব ছিঁড়ে ফেলে এবং বিজেপির দলীয় পতাকা উপড়ে দেয়। সজল ঘোষের অভিযোগ, “সায়ন্তিকার ঘনিষ্ঠ বিশ্বজিৎ বর্ধন ও তাঁর সঙ্গীরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। আমাদের সব ঝাণ্ডা তুলে নিয়ে চলে গেছে। এর ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে।”

ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ। এলাকায় গিয়েই তিনি তৃণমূলের এই ‘দাদাগিরির’ বিরুদ্ধে সরব হন। মাইক হাতে নিয়ে তিনি সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিজেপি সমর্থকদের পক্ষ থেকে ‘সায়ন্তিকা গো ব্যাক’ এবং ‘চোর এমএলএ গো ব্যাক’-এর মত স্লোগান উঠতে থাকে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাল্টা মারধরের অভিযোগ তোলা হলে সজল ঘোষ পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “কাকে মেরেছি দেখাও? সব মোবাইলে ধরা আছে। এসব মিথ্যে কথা বাংলার মানুষ বোঝে।” এদিকে তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগ করেন যে, বিজেপি বহিরাগতদের নিয়ে এসে হকি স্টিক দিয়ে তাঁদের মহিলা কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে বিজেপি শিবিরের দাবি, নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে ‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলতেই তৃণমূল এই ধরণের ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। সজল ঘোষের কথায়, “জনগণকে যেভাবে ক্ষ্যাপাচ্ছে, জনগণ জবাব দিলে সেটা আমাদের হাতে নেই।”

এই ঘটনার জেরে গোপাল লাল ঠাকুর রোডে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হলে বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় পৌঁছায়। বর্তমানে এলাকায় পুলিশি টহল চলছে এবং পরিস্থিতি থমথমে। বিজেপি কর্মীদের দাবি, তৃণমূল যত বেশি ভয় দেখানোর চেষ্টা করবে, বরানগরের মানুষ পদ্ম চিহ্নে ভোট দিয়ে তত বেশি কড়া জবাব দেবে।