প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- পশ্চিমবঙ্গে তো বটেই, ভারতবর্ষের রাজনীতিতেও কি ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায? তিনি বুঝতে পারছেন যে, ২০২৬ এর নির্বাচনে তিনি আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না। আর সেই কারণেই এখন এসআইআরের বিরুদ্ধে দিল্লি গিয়েছেন তিনি। গতকাল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাইরে বেরিয়ে এসে অনেক কথা বলেছেন। এমনকি সকালে বঙ্গভবনের বাইরে যেখানে দিল্লি পুলিশ ছিল, সেখানে গিয়েও অনেক লম্ফঝম্ফ করতে দেখা গিয়েছে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে। তার মুখ থেকে বারবার শোনা গিয়েছে যে, তিনি বলছেন, তিনি বাড়ির কাপড় পড়েই এখানে চলে এসেছেন প্রতিবাদ জানাতে। কারণ দিল্লি পুলিশ এসআইআরের কারণে যে সমস্ত মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের পরিবার-পরিজনদের তিনি নিয়ে এসেছেন, তাদের হেনস্থা করার চেষ্টা করছেন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বাড়ির পোশাক পড়ে এসেছেন বলে যতই মানুষের সিমপ্যাথি আদায়ের চেষ্টা করুন, যতই তিনি বোঝানোর চেষ্টা করুন যে, তিনি অগ্নিকন্যা, তার ড্রামা এবার ফাঁস করে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
গতকাল সকাল থেকেই দিল্লির রাজনীতিতে একটি নাটকীয় চিত্র সামনে আসে। যেখানে হঠাৎ করেই এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দিল্লির বঙ্গভবনের সামনে চলে যান এবং তিনি সেখানে গিয়ে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। তিনি দাবি করেন যে, এসআইআরের ফলে যে সমস্ত মানুষ মারা গিয়েছে, যাদের পরিবার-পরিজনদের বঙ্গভবনে নিয়ে এসে রাখা হয়েছে, সেখানেও দিল্লি পুলিশ এসে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং তাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। আর সেই কারণেই তিনি এক কাপড়েই এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে চলে এসেছেন। কিন্তু যে মুখ্যমন্ত্রী এক পোশাকেই মানুষের জন্য এত দরদ পোষণ করে এখানে চলে আসতে পারেন, সেই মুখ্যমন্ত্রী কেন তার মাইক্রোফোনটা নিতে ভুললেন না? এবার সেই প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রীতিমত গাড্ডায় ফেলে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। মুখোশ খুলে দিলেন যে, এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সব ব্যাপারে রাজনীতি করেন। আর এটাও তার রাজনীতির একটা পার্ট এবং তিনি চূড়ান্ত ড্রামাবাজি করছেন।
এদিন এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষকে যে ইচ্ছাকৃত হয়রানি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রশাসনের পক্ষে করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল। আর তারপরেই বাইরে বেরিয়ে এসে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লিতে সকাল থেকে যে ড্রামা লক্ষ্য করা গিয়েছে, তা নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। শুভেন্দুবাবু বলেন, “উনি দিল্লিতে প্রথমার্ধে যা করেছেন, আমি ধন্যবাদ জানাই দিল্লি পুলিশকে যে, ওনার ড্রামা বেশিক্ষণ চলেনি। উনি বাড়ি থেকে নাকি রাত্রের পড়া কাপড়টা পড়ে বেরিয়ে এসেছেন। কিন্তু উনি ওই ডাব্বাটা নিতে ভোলেননি। উনি মাইক আর মাইক্রোফোনটা নিয়ে আসতে ভোলেননি। আর দিল্লি হাইলি সেনসিটিভ এরিয়া। সেখানে পার্লামেন্ট চলছে। সেখানে প্রত্যেকটা রাজ্যের যে ভবন বা আবাস আছে, সেখানে দিল্লি পুলিশের কড়া নজরদারি থাকে। তাই অতিরিক্ত সেখানে কিছু ছিল না। নরমাল পুলিশ ছিল।” অর্থাৎ শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে, এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী গতকাল সকাল থেকে দিল্লিতে যে নাটকটা করেছেন, যেভাবে তিনি বলেছেন, তিনি বাড়ির পড়া কাপড় পড়েই প্রতিবাদ জানাতে চলে এসেছেন, তার সবটাই তার একটা চূড়ান্ত ড্রামা। তিনি এসব চিত্রনাট্য তৈরি করে ভেবেছিলেন যে, তিনি ফুটেজ খাওয়ার চেষ্টা করবেন। কিন্তু দিল্লি পুলিশ তাকে সেই ফুটেজ খেতে দেয়নি। ফলে মুখ্যমন্ত্রী যতই বাড়ির পড়া কাপড় পড়ে তিনি চলে এসেছেন বলে প্রচারের আলোয় আসার চেষ্টা করুন না কেন, যদি এতই মানুষের জন্য তিনি উদগ্রীব হবেন, তাহলে সেই মাইক্রোফোনটা নিতে তো তিনি ভোলেননি, এই প্রশ্ন তুলে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত চিত্রনাট্যকে বানচাল করে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।