প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক সক্রিয় বিজেপি কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল। বারুইপুর থানার অন্তর্গত উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়া এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের নাম বাপি প্রামাণিক (৪৫)। তিনি এলাকার একজন সক্রিয় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল (রবিবার) গভীর রাতে বাপি প্রামাণিকের মোবাইলে একটি ফোন আসে এবং তাঁকে বাড়ির বাইরে আসতে বলা হয়। পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বাপির সাথে তাঁর স্ত্রীও বাইরে আসেন। অভিযোগ, কিছু বুঝে ওঠার আগেই একদল দুষ্কৃতী কার্যত স্ত্রীর সামনে থেকেই বাপি প্রামাণিককে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে কিছুটা দূরে অন্ধকার রাস্তায় নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে প্রথমে লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয় এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কোপানো হয়। রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা বাপিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই খুনের ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কারণ, নিহতের পরিবার কোনো বিরোধী দলের দিকে নয়, বরং সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতা সুজন মণ্ডলকে। বাপির পরিবারের সরাসরি অভিযোগ, স্থানীয় একটি পুজো কমিটির গঠন, তার দখল এবং পুরনো শত্রুতার জেরে সুজন মণ্ডল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই খুনের চক্রান্ত সাজিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, “সুজন মণ্ডলের নির্দেশেই তৃণমূলের গুন্ডারা এসে বাপিকে বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে খুন করেছে।” যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এই ঘটনার সাথে তাঁদের কোনো যোগসূত্র থাকার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে এবং একে বিজেপির নিজস্ব অন্তর্কোন্দলের ফল বলে দাবি করেছে।

ঘটনার পর বারুইপুর থানার পুলিশ নিহতের পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট খুনের মামলা দায়ের করে তদন্তে নেমেছে। বারুইপুর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি পুজো কমিটি গঠন এবং গ্রামের দুটি গোষ্ঠীর পুরনো সামাজিক বিবাদকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, যার জেরে বাপির মৃত্যু হয়।ইতিমধ্যেই পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে মূল সন্দেহভাজন এবং জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলার অবনতি রুখতে এবং নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানো রুখতে ট্যাঙ্গারবেড়িয়া গ্রামে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।