প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুরে চতুর্থ শ্রেণির নাবালিকাকে নৃশংস নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় ঘটল এক চাঞ্চল্যকর মোড়। মঙ্গলবার গভীর রাতে ক্রাইম সিন পুনর্নির্মাণের (অপরাধের ঘটনার বিবরণ যাচাই) জন্য মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সেখানে আচমকাই পুলিশের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। পাল্টা পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ধৃত ওই অপরাধীর।

পুলিশ সূত্রের খবর, তীব্র জনরোষের আশঙ্কায় মঙ্গলবার রাত পৌনে একটা নাগাদ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রভাস মণ্ডলকে সূর্যপুরের সেই পুকুর পাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখান থেকে গত রবিবার বস্তাবন্দি অবস্থায় নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন আচমকাই উপস্থিত এক পুলিশ আধিকারিকের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেয় প্রভাস।অস্ত্র হাতেই সে এলাকা ছেড়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে এবং তাকে আটকাতে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। পুলিশের গুলিতে গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রভাস। রাতেই তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে কোনো রকম শোক বা সহমর্মিতা প্রকাশ করেননি প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল। উল্টে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “নাবালিকার সাথে ও যা নৃশংসতা করেছে, তার উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছে। ও নিজের কর্মের ফল পেয়েছে, এতে আমার শান্তি। আমি ওর মুখও দেখতে চাই না, মৃতদেহ আনতেও যাব না।” প্রভাসের মায়ের এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল।

এই ঘটনার তদন্ত ও এলাকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত তৎপর। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই বারুইপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত প্রভাস মণ্ডল ছাড়া আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং কবীর মোল্লাসহ মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের জেরা করে ঘটনার নেপথ্যে আর কেউ রয়েছে কি না তা জানার চেষ্টা চলছে। উত্তেজনাপ্রবণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বারুইপুর, সোনারপুর এবং নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।