প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বারুইপুরে নাবালিকা ছাত্রীকে নৃশংস নির্যাতন ও খুনের ঘটনার পর অবশেষে বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল জেলা পুলিশ। গোটা এলাকায় তৈরি হওয়া তীব্র উত্তেজনা ও জনরোষের মাঝেই রবিবার রাতভর বারুইপুরের বিভিন্ন প্রান্তে এবং সুন্দরবনের সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক চিরুনি তল্লাশি চালায় পুলিশ বাহিনী। এই বিশেষ অভিযানে এখনও পর্যন্ত মূল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের জেরা করে এই নৃশংস অপরাধের ব্লু-প্রিন্ট ও বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ঘটনার ভয়াবহতা এবং এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বারুইপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT – Special Investigation Team) গঠন করা হয়েছে। ৬ সদস্যের এই বিশেষ তদন্তকারী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বারুইপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ASP)। দলের বাকি সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষ তদন্তকারী আধিকারিক ও গোয়েন্দা বিভাগের কর্তারা।ডিজিটাল এবং ফরেনসিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঘটনার কিনারা করতে কোমর বেঁধে নেমেছেন সিট-এর আধিকারিকরা।
ধৃতদের আজই বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে খুব দ্রুত চার্জশিট পেশ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যাতে অপরাধীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কঠোরতম শাস্তি পায়।
একদিকে যেমন খুনের ঘটনার কিনারা করা সিট-এর মূল লক্ষ্য, অন্যদিকে তেমনই এলাকায় শান্তি ফেরাতে এবং নতুন করে কোনও গুজব ছড়ানো রুখতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়াতেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে যাতে কেউ উস্কানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে শান্তিভঙ্গ করতে না পারে।