প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নাবালিকার নৃশংস খুনের ঘটনা সামনে আসতেই কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নিল বারুইপুর। রবিবার সকাল থেকেই জনরোষের আগুনে ফুঁসছে গোটা এলাকা। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে তীব্র বিক্ষোভ দেখান হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ক্ষোভ আরও দ্বিগুণ হয়, যার জেরে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীদের দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সূর্যপুর হাটের পুকুর থেকে নাবালিকার বস্তাবন্দি ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের পর থেকেই এলাকার মহিলারা লাঠি ও বাঁশ হাতে রাস্তায় নেমে আসেন। উত্তেজিত জনতা বারুইপুর-জয়নগর রোড এবং কুলপি রোড সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দেয়। রাস্তার মাঝখানে টায়ার জ্বালিয়ে চলে বিক্ষোভ। এর জেরে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার বারুইপুর-নামখানা লাইনেও রেল চলাচল দীর্ঘক্ষণ ব্যাহত হয়। সপ্তাহের শুরুতেই এই চরম অবরোধের জেরে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন নিত্যযাত্রীরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বারুইপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র্যাফ (RAF) ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে চারিদিক থেকে তীব্র ইটবৃষ্টি শুরু করে। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করলে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। উন্মত্ত জনতার হামলায় পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী এবং বিক্ষোভকারী জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
বিকেলের দিকে বিশাল পুলিশ বাহিনী গ্রামে রুট মার্চ করে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনলেও গোটা এলাকায় এখনও থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের স্পষ্ট দাবি, যতক্ষণ না সমস্ত অপরাধীদের গ্রেফতার করে ফাঁসির সাজা দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের এই ক্ষোভের আগুন প্রশমিত হবে না। এলাকায় নতুন করে যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।