প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- এই রাজ্যের বুকে শুধুমাত্র নিয়োগ দুর্নীতি নয়, কয়লা পাচার থেকে শুরু করে গরু পাচারের মত একাধিক বিষয় রয়েছে। বারবার করে এই সমস্ত বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত করলেও, কেন নিট ফল জিরো হচ্ছে, এই প্রশ্ন অনেকের মধ্যেই উঠতে দেখা গিয়েছে। বিরোধীদের পক্ষ থেকেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ডাকাডাকি না করে এবার আসল খেলাটা শুরু করুক। এই বক্তব্যও অনেক নেতারা করেছেন। তবে নির্বাচন যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, ঠিক তার আগেই এবার সেই কয়লা পাচার মামলায় ইডি একেবারে ঝোড়ো ব্যাটিং করতে শুরু করেছে। যেখানে এতদিন বিরোধীদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের একটা অংশ এই কয়লা পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছিল, ঠিক সেই রকম একটি জায়গায় বুদবুদ থানার ওসিকে ডেকে পাঠালো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

এই রাজ্যের বুকে অনেকের মধ্যেই একটা অভিযোগ আছে যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সঠিকভাবে তদন্ত করছে না। তা না হলে যে পরিমাণ দুর্নীতি কয়লা থেকে শুরু করে গরু এবং বালিতে হয়েছে, তাতে অনেকেই এতদিন শ্রীঘরে যেতেন। কিন্তু কেন ইডি হাত খুলে খেলছে না, সেই নিয়ে অনেক অভাব, অভিযোগ অনেকের মধ্যেই রয়েছে। তবে সঠিক সময়েই যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তা আবার একপক্ষ বলতে শুরু করেছিলেন। আর এই পরিস্থিতিতে কিছুদিন আগেই সেই বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মন্ডলের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিল ইডি আধিকারিকরা। আর এবার শেষ পর্যন্ত তাকে তলব করা হয়েছে। তবে শুধু তাকে নয়, আরও এক কয়লা ব্যবসায়ী, যিনি লালার ঘনিষ্ঠ বলেই খবর, সেই চিন্ময় মন্ডলকেও ডেকে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতদিন বিরোধীরা অভিযোগ করেছিলেন যে, অনেক প্রশাসনের আধিকারিকরাও এর সঙ্গে জড়িত। এমনকি তারা এই কয়লা পাচার থেকে টাকা নিয়ে একটা মোটা টাকা ওপরে পাঠিয়ে দেন। স্বাভাবিকভাবেই এই সমস্ত প্রশাসনের যে সমস্ত আধিকারিকরা রয়েছেন, যারা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের চেপে ধরলেই আরও বড় তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যেভাবে বুদবুদ থানার ওসির বাড়িতে হানা দেওয়ার পর বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তাকে ডেকে পাঠিয়েছে, তাতে আগামী দিনে এই কয়লা পাচার তদন্তের ক্ষেত্রে বড় একটা মোড় তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।