প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্য সরকার আইন-কানুন আদালত, বিচার ব্যবস্থা, কিছুই কি মানবে না? সম্প্রতি শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে বকেয়া মহার্ঘভাতা মামলায় একটি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো। আদালতের পক্ষ থেকে রায়দান করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, মার্চ মাসের মধ্যে বকেয়া ২৫ শতাংশ বকেয়া মহার্ঘভাতা সরকারি কর্মচারীদের মিটিয়ে দিতে হবে। এমনকি বাকি ৭৫ সংখ্যা মিটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। কিন্তু সেই রায়দান সামনে আসার পরেও রাজ্যের সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। স্বাভাবিক ভাবেই অনেকেই বলছেন যে, এই সরকারের আচরণ খুব একটা সুবিধা জনক নয়। এরা আবার চেষ্টা করছে, আদালতের রায়কেও অমান্য করার। তাই এবার নিজেদের দাবি আদায় করতে এবং অধিকার বুঝে নিতে রাজ্য সরকারকে বিপাকে ফেলে সুপ্রিম কোর্টে চলে গেল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।
ইতিমধ্যেই আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় রায়দান করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই রায় সামনে আসার পরেও রাজ্য সরকার চাইছে, যেভাবেই হোক, যাতে এই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দিতে না হয়। কারণ যে নির্দেশ আদালত দিয়েছে, তাতে আদালতের এই নির্দেশ পালন করলে রাজ্যের কোষাগার শূন্য হয়ে যাবে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাতা, ভর্তুকি দিয়ে ভোট নেওয়ার চেষ্টা করছেন, সেটা তিনি আর দিতে পারবেন না। কিন্তু আদালতের নির্দেশ যদি এই সরকার না মানে, তাহলে তাদের আরও বিপাকের মুখে পড়তে হবে, এটা কি তাদের মাথায় নেই? ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীকে এই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের যে নির্দেশ, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি বিচারাধীন বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু বিরোধীদের পাল্টা দাবি, যে বিষয়টিতে রায়দান করে দিয়েছে আদালত, সেখানে বিচারাধীন বিষয় বলে তো কিছু নেই। এবার রাজ্যকে আদালতের এই নির্দেশ তো পালন করতে হবে। তবে সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবে না বুঝেই এবার রাজ্যের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে গেলেন সরকারি কর্মচারীরা।
সূত্রের খবর, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মামলায় ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের যে নির্দেশ, তার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরেই এই দিকে নজর রাখছিলেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যরা। তবে আদালতের রায়দানের পরেও যখন রাজ্যের কোনো হেলদোল নেই, তখন তারা ফের রাজ্যের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে গেল। ইতিমধ্যেই এই সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবকে একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আর এবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এখনও পর্যন্ত না মানার কারণে আদালত অবমাননার অভিযোগে রাজ্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের এই পদক্ষেপ বকেয়া মহার্ঘভাতা মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার সরকারকে প্রবল গাড্ডার মুখে ফেলে দেবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।