প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে এসআইআর যে প্রবল আতঙ্কের মত কাজ করছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বর্তমানে এসআইআর প্রক্রিয়ায় শুনানি চলছে। আর সেই শুনানি কেন্দ্রে গিয়ে কিছুদিন আগেই নিজের অনুগামীদের নিয়ে রীতিমত তান্ডব চালিয়েছিলেন ফারাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। একজন জনপ্রতিনিধি কি করে নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে এইভাবে তান্ডব চালাতে পারেন এবং তারপরেও তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হয় না, তা নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। আর তার মধ্যেই এবার ফের আগুন জ্বালানোর হুংকার দিয়ে বসলেন সেই তৃনমূল বিধায়ক। যার ফলে প্রশ্ন উঠছে যে, বিধায়কের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে আইন হাতে তুলে নেওয়ার মতো একের পর এক কাজ এবং কথা বলে গেলেও কেন মনিরুলবাবুর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হবে না?

বর্তমানে এসআইআর প্রক্রিয়ার শুনানি কেন্দ্রের বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। জেলায় জেলায় এসআইআরের শুনানির বিরোধিতা করে কিছু মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। এমনকি অনেকে আইন হাতে তুলে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠছে। যার ফলে নির্বাচন কমিশন কেন নীরব, কেন তারা কড়া ব্যবস্থা নিতে পারছে না, তা নিয়েও অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। আর তার মধ্যেই কিছুদিন আগে বিডিও অফিসে গিয়ে তান্ডব চালানো তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম আরও বড় মন্তব্য করে বসলেন। যার ফলে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন মহলে যে, এসআইআরৈর চূড়ান্ত তালিকা বেরোনোর পর কি সত্যিই তাহলে সেটা যদি তৃণমূলের মন মত না হয়, তাহলে এইরকম আগুন জ্বালানোর মত পরিস্থিতি তৈরি করবে তারা?

এদিন একটি কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ফারাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। আর সেখানেই তিনি বলেন, “নিজে বাঁচার জন্য, আগামী প্রজন্মকে বাঁচানোর জন্য তৈরি থাকুন। বলার অনেক কিছু ছিলো। আমি শুধু ইশারায় বলব, ফাইনাল লিস্ট বেরোবে। তখন যদি সব ঠিকঠাক হয়, নচেৎ দেখবেন, চারিদিকে আগুন জ্বলছে। কিছু করার নেই। ধুক ধুক করে মরার থেকে লড়াই করে মরা আমি মনে করি স্বার্থক।” আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে যে, তাহলে কি এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা বেরোনোর পর যদি সেই তালিকা পছন্দমত না হয়, তাহলে কি একেবারে আইন হাতে তুলে নিয়ে আরও ভয়ংকর কাজ করতে পারেন এই তৃণমূল বিধায়ক? আর সেই কারণেই কি দলীয় নেতা কর্মীদের এখন থেকেই প্ররোচনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি? তবে যেভাবে এই তৃণমূল বিধায়ক কখনো আইন হাতে তুলে নিচ্ছেন, কখনও প্ররোচনা দিচ্ছেন, তাতে এখন থেকেই তার দিকে বাড়তি সতর্কতামূলক দৃষ্টি রেখে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত কমিশনের বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।