প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের সবথেকে বড় সমস্যা, বেকারদের সমস্যা। এই রাজ্যে চাকরি নেই, এই রাজ্যে কর্মসংস্থান হলেও দুর্নীতির বিনিময়ে টাকার বিনিময়ে সেই কর্মসংস্থান হয়। ইতিমধ্যেই আদালতের দরজায় নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে যে সমস্ত মামলা হয়েছে এবং যেভাবে এই রাজ্য সরকারের একাধিক নেতা-মন্ত্রীরা জেনে গিয়েছে তাতেই স্পষ্ট যে, এখানে মেধার কোনো দাম নেই। বিরোধীরা এই বিষয়কে সোচ্চার করে জনতার মন পাওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি জনতার মধ্যেও একটা প্রতিক্রিয়া কাজ করছে যে, এই সরকারকে সরাতে হবে। শুধুমাত্র ভাতা, ভিক্ষা দিয়ে বেকারদের মেরুদন্ড এরা ভেঙে দিতে চাইছে। আর এটা বুঝতে পেরেই বেকারদের ভোট পাওয়া যাবে না, উপলব্ধি করেই কি আজ রাজ্য বাজেটে সেই বেকারদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
ইতিমধ্যেই বিধানসভায় শুরু হয়েছে রাজ্য বাজেট। রাজ্য বাজেট পেশ করছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। আর সেখানেই বেকার যুবক, যুবতীদের জন্য নয়া প্রকল্পের ঘোষণা করলো রাজ্য সরকার। যার নাম দেওয়া হয়েছে, বাংলার যুবসাথী। যেখানে বেকারদের মন পাওয়ার জন্য ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে যে সমস্ত মাধ্যমিক পাস যুবক-যুবতীরা রয়েছেন, তাদের মাসে মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে এই প্রকল্প এখন নয়, সামনেই যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে, সেই নির্বাচনের পরে যদি তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় ফেরে, তখনই বেকার যুবক, যুবতীদের ভাতা দেওয়ার এই প্রকল্প আগামী ১৫ আগস্ট থেকে তারা চালু করবেন বলে জানানো হয়েছে রাজ্য বাজেটে।
আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের রাজ্য বাজেটে এই চমকপ্রদ ঘোষণা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিরোধীরা। তাদের পাল্টা বক্তব্য, ১৫০০ টাকায় কি হয়? যে বেকার যুবকটা মেধা দিয়ে পড়াশোনা করে ৪০ হাজার টাকার শিক্ষকতা চাকরি পাওয়ার কথা ছিলো, তাকে ১৫০০ টাকা দিয়ে ভুলিয়ে রাখা কি যায়? আবারও লক্ষ্মীর ভান্ডারের মত সামান্য কিছু টাকা দিয়ে এবার মেয়েদের পাশাপাশি বেকার যুবক-যুবতীদের ভোট কিনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এসবে লাভের লাভ কিছুই হবে না। ২০২৬ এর নির্বাচন তৃণমূলের বিসর্জন বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।