প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
ভিন রাজ্যের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছিলো কিছুদিন আগে মুর্শিদাবাদে বেলডাঙা, যেভাবে জাতীয় সড়ক অবরোধ করার পাশাপাশি ট্রেন লাইনে পর্যন্ত ঘন্টার পর ঘন্টা কিছু মানুষ বসেছিলেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রীতিমত প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়। রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। আর এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়া হলে আদালত কেন্দ্রীয় সরকার চাইলেই এনআইএ তদন্ত করতে পারে বলে জানিয়ে দেয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এনআইএ তদন্তের ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়। তবে তারপরেই এনআইএ তদন্তের বিরোধিতায় শীর্ষ আদালতে চলে যায় রাজ্য সরকার। কিন্তু সেখানে গিয়েও তারা চরম ধাক্কা খেলো।

প্রসঙ্গত, বেলডাঙার ঘটনায় কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এনআইএ তদন্ত শুরু হয়েছিলো। কিন্তু এই এনআইএ তদন্ত নিয়েও রাজ্যের গাত্রদাহ শুরু হয়। যার ফলে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করে, যেখানে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভঙ্গ হয়ে যাওয়ার পরেও ঘন্টার পর ঘন্টা কিছু মানুষ রাস্তা অবরোধ করার পরেও পুলিশ সামলাতে পারেনি, সেখানে এনআইএ তদন্ত হলে রাজ্যের এত অসুবিধে কোথায়? তারা কি শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চাইছে? প্রশ্নটা আরও জোরালো হতে শুরু করে, যখন রাজ্য এই এনআইএ তদন্তের বিরোধিতায় সুপ্রিম কোর্টে চলে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালতে গিয়েও কোন লাভ হলো না। যেখানে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে এই এনআইএ তদন্ত নিয়ে বড় নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হলো।

সূত্রের খবর, এদিন সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের পক্ষ থেকে বেলডাঙ্গা কান্ডে এনআইএ তদন্তের বিরোধিতায় যেভাবে যাওয়া হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিমকোর্ট নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। যেখানে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় এই ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টই সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ এই ব্যাপারে কোনোরূপ হস্তক্ষেপ করলো না দেশের শীর্ষ আদালত। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য সরকার, যারা চেয়েছিল যে, যেভাবেই হোক এনআইএ তদন্তকে আটকাতে, তাদের সেই চেষ্টা আপাতত সফল হলো না। সুপ্রিম কোর্ট পুরোটাই কলকাতা হাইকোর্টের ওপরে ছেড়ে দেওয়ায় রাজ্য আরও বেকায়দায় পড়ে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।