প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সোমবার দুপুরে এক নজিরবিহীন নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা-২ নম্বর ব্লক। তৃণমূলের সাজানো বাগানে আচমকাই যেন ‘বোমা’ ফাটালেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়ে খোদ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সহ-সভাপতির ঘরে ঝোলানো হলো তালা। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা চত্বর।

সূত্রের খবর, এদিন দুপুরে বিশাল অনুগামী নিয়ে বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতি অফিসে সশরীরে হাজির হন হুমায়ুন কবীর। তাঁর নিশানায় ছিল পূর্বতন সরকারের আমলের ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্প। বিধায়কের বিস্ফোরক দাবি, এই প্রকল্পে কাজের নাম করে প্রায় ২৮ কোটি টাকার সরকারি তহবিল লোপাট করা হয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে তিনি ও তাঁর অনুগামীরা সরাসরি পদাধিকারীদের ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন।

অফিসের গেটে দাঁড়িয়েই রীতিমতো হুঙ্কার ছাড়েন হুমায়ুন কবীর। তিনি সাফ জানান, “তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত এই তালা খুলবে না। কোনো বকেয়া বিল এখানে পাশ হবে না।” তাঁর অভিযোগের তির সরাসরি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দিকে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শক্তিপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু উত্তেজিত জনতার ভিড় সরাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকেও।

তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব অবশ্য এই যাবতীয় অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, উন্নয়নকে স্তব্ধ করতেই এই ধরণের বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন— যদি কাজ হয়েই থাকে, তবে কেন তদন্তের দাবিতে এত আতঙ্ক? কেনই বা ২৮ কোটি টাকার হিসেব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে?

বিধায়ক কেবল অফিস তালাবন্দি করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি শক্তিপুর থানার আইসি-র বিরুদ্ধেও বেআইনি মাটি বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন। সব মিলিয়ে বেলডাঙায় এখন চরম অস্থিরতা। পুলিশের নজরদারিতে এলাকা শান্ত থাকলেও, সভাপতি ও সহ-সভাপতির ঘরের ওই তালাটি যেন এখন বড় কোনো দুর্নীতির পাহাড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।