প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- বর্তমানে বেলডাঙায় যেভাবে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যেভাবে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ওপর পর্যন্ত হামলা হয়েছে এবং পুলিশ পদক্ষেপ নিলেও তা সামলাতে পারছেন না, তাতে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম থেকেই পুলিশ যদি কড়া হাতে পরিস্থিতিকে সামাল দিত, তাহলে হয়ত এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। অন্তত তেমনটাই বলছে বিরোধীরা। মূলত, ভিন রাজ্যে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গতকাল থেকেই তার মরদেহ নিয়ে প্রতিবাদ করছেন কিছু মানুষ। জাতীয় সড়ক অবরোধ করার পাশাপাশি ট্রেন পর্যন্ত অবরোধ করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আটকে রয়েছেন যাত্রীরা। আর এই পরিস্থিতিতে যখন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, তখন এবার রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে পরিস্থিতিকে আয়ত্তে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার দাবি জানালেন রাজ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
গতকাল থেকেই যখন বেলডাঙ্গা উত্তপ্ত হতে শুরু করেছিল, তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর একটি মন্তব্য ঘিরে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একটি নির্দিষ্ট দিনে কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষ তাদের আচার-আচরণ পালন করে, তাই সেই দিন এইরকম হতেই পারে বলে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে তিনি খুব একটা ভালোমত নিতে পারছেন না বলেই জানিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। গোটা বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে চর্চা পর্যন্ত হয়েছিল। আর এই পরিস্থিতিতে আজ সকাল থেকেও উত্তেজনা কমেনি বেলডাঙ্গায়। যত সময় যাচ্ছে, ততই পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করেছে। পুলিশ এখন ময়দানে নামলেও পরিস্থিতি কখন আয়ত্তে আসবে, কখন শান্ত হবে এলাকা, তা কেউ জানে না। তাই যখন আইন হাতে তুলে নিচ্ছেন কিছু মানুষ, তখন পরিস্থিতিকে আনতে আনতে আর পুলিশের ওপর ভরসা করতে পারছেন না রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যার ফলে এবার রাজ্যপালকে চিঠি দিলেন তিনি।
সূত্রের খবর, উত্তপ্ত বেলডাঙা নিয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে একটি চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বর্তমানে যেভাবে বেলডাঙ্গার পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে গিয়েছে এবং দুষ্কৃতীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে, তাতে রাজ্য পুলিশ এই পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ বলেই দাবি করেছেন তিনি। আর সেই কারণেই যাতে বেলডাঙায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি আটকাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়, চিঠিতে সেই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য পুলিশের অপারগতার বিষয়টি তুলে ধরে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের কাছে বেলডাঙার ইস্যু নিয়ে বিরোধী দলনেতার এই চিঠি যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে শুভেন্দু অধিকারীর এই চিঠির পর এবার রাজ্যপালের পক্ষ থেকে বেলডাঙাকে শান্ত করতে সত্যিই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার মত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।