প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু হতেই চরম উত্তেজনা ছড়াল খোদ দক্ষিণ কলকাতার হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র ভবানীপুরে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে পুলিশের বাধার মুখে পড়লেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সরাসরি বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি, যা ঘিরে ভোটের সকালে এলাকায় কার্যত রণক্ষেত্র পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বুধবার সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সূত্রপাত। ভবানীপুরের একটি ক্লাবের সামনে বেশ কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে বসেছিলেন কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়। খবর পেয়েই সেখানে পৌঁছায় কলকাতা পুলিশের একটি বিশাল বাহিনী। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশিকা এবং এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির কথা উল্লেখ করে পুলিশ সরাসরি জমায়েত ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিককে কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে সাফ বলতে শোনা যায়, “আজকের দিনটা নিয়ম মানতে হবে। সারা বছর আপনাকে কিছু বলব না, কিন্তু আজ ভোটের দিন চারজনের বেশি জমায়েত একদম নয়। তা সে বুথের কাছে হোক বা দূরে।” এই নির্দেশে মেজাজ হারান কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পাল্টা দাবি করেন, “এটা আমাদের পাড়া, আমাদের ক্লাব। এখানে কোনও বুথ নেই।” পুলিশের এই কড়াকড়িকে সরাসরি ‘জুলুম’ এবং ‘ভয় দেখানো’র রাজনীতি বলে তোপ দাগেন তিনি। এমনকি পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে পুলিশের সঙ্গে তাঁর তুমুল কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
২০২৬-এর এই মহাযুদ্ধে শেষ দফার ভোটগ্রহণে কমিশন কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না। ১৪২টি আসনের প্রতিটিতেই জমায়েত রুখতে কড়া নির্দেশ রয়েছে। এদিনের ঘটনায় পুলিশ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার বা প্রভাবশালী নেতা— আইন সবার জন্য সমান। শেষ পর্যন্ত পুলিশের অনড় অবস্থানের কাছে পিছু হটতে বাধ্য হয় তৃণমূল কর্মীরা এবং জমায়েত সরিয়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর থেকেই গোটা ভবানীপুর এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় খোদ তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে পুলিশের এই ‘মুখোমুখি সংঘাত’ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, অতিসক্রিয়তা দেখিয়ে ভোটারদের মনে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধীদের দাবি, পুলিশ আজ প্রকৃত অর্থেই নিরপেক্ষ কাজ করার চেষ্টা করছে।
সব মিলিয়ে শেষ দফার ভোটের শুরুতেই ভবানীপুরের এই উত্তাপ বুঝিয়ে দিচ্ছে, আজকের দিনটি রাজ্য রাজনীতির জন্য কতটা অগ্নিগর্ভ হতে চলেছে।