প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এসআইআরের ফলে তৃণমূল যে গোটা রাজ্যেই পরাজিত হবে, তা তারা খুব ভালোমতই বুঝতে পেরেছে। এমনকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর নিয়েও যে নিরাপদ নন, তা প্রতিমুহূর্তে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিজেপির কাছে ঘনঘন তিনি বিএলএ ২ দের নিয়ে বৈঠক করছেন। আর বিজেপির আতঙ্ক তার মধ্যে এতটাই গ্রাস করেছে, যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের সবথেকে বড় প্রচারের মুখ বলে তারা দাবি করে, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে রাতের অন্ধকারে খুলে নেওয়া হয়েছে বিজেপির পতাকা। গতকালই সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও পোস্ট করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর বিজেপির দলীয় পতাকাকে যেভাবে খুলে নিয়ে তা পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিলো, তার পরিপ্রেক্ষিতে আজ সেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে যেই এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে, সেখানে পৌঁছে গেলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
২৬ এর নির্বাচনের আগে শুভেন্দুবাবু প্রতিনিয়ত দাবি করছেন যে, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ভবানীপুরেও পরাজিত করে দেখাবেন। কতটা সেটা সম্ভব হবে, তা সময় বলবে। কিন্তু এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে জয়লাভ করা নিয়েও অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় গতকাল একটি ভিডিও পোস্ট করে বুঝিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। যেখানে দেখা যাচ্ছে যে, কিছু মানুষ বিজেপির পতাকা খুলে নিচ্ছেন। তবে শুধুমাত্র ভোটের আগে তৃণমূল এইভাবে ভয় দেখানোর পরিস্থিতি তৈরি করে যদি ভাবে বিজেপিকে তারা আটকে রাখবে, তাহলে তারা যে ভুল করছে, আজ তা হাতেনাতে বুঝিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুধুমাত্র সোসাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ করেই থেমে থাকলেন না তিনি। প্রকৃত নেতার মত বিজেপি কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে যে এলাকায় এইভাবে বিজেপির পতাকা খুলে নেওয়া হয়েছে, সেখানে আবারও পুনরায় বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। আর এতেই যথেষ্ট উজ্জীবিত বিজেপি নেতা কর্মীরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনটাই বিরোধী নেতা হওয়া উচিত। শুধুমাত্র ওই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ করেই এখন থেমে থাকার মধ্যে থাকলে হবে না বিজেপিকে। বিজেপিকে তাদের কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আর সেটাই শুভেন্দু অধিকারী করছেন। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের খাসতালুক। কিন্তু সেখানে বিজেপির পতাকার অসম্মান করা হয়েছে, তাই বলে চুপ করে বসে থাকবে বিজেপি, এমনটা হতে পারে না। তাই সাথে সাথেই বিন্দুমাত্র দেরি না করে কর্মীদের পাশে সাহস যুগিয়ে আজ সেই এলাকায় পৌঁছে গিয়ে পতাকা টাঙানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে ২৬ এর নির্বাচনের আগে যে ভোকাল টনিকটা শুভেন্দু অধিকারী দিয়ে দিলেন, তা অত্যন্ত প্রয়োজন ছিলো। এমনকি এর ফলে শাসক দল এই কাজ করার আগে ভবিষ্যতে দুইবার ভাববে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।