প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে নেমে এক বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। বৃহস্পতিবার দিনভর একাধিক জায়গায় তল্লাশির পর, অবশেষে শুক্রবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কামালগাজি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হলো ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সওকত মোল্লাকে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই বিস্ফোরণ মামলার অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে নাম উঠে এসেছে এই নেতার। গত ১৯ মার্চ ভাঙড়ের দক্ষিণ বামুনিয়া গ্রামে বেআইনি বোমা বাঁধার সময় একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয় এবং তিনজন গুরুতর জখম হন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পরবর্তীতে এই মামলার তদন্তভার হাতে নেয় NIA। তদন্তকারীদের দাবি, এই ঘটনায় বিস্ফোরক মজুত ও ষড়যন্ত্রের পেছনে সওকত মোল্লার যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সওকত মোল্লার বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়সহ মোট ৮টি জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশি চালায় এনআইএ। সেই সময় তাঁর হদিশ না মেলায় কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে তাঁকে ‘পলাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এনআইএ সূত্রের দাবি, শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কামালগাজি এলাকা থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, তিনি মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপনের চেষ্টা করছিলেন। অন্য দিকে, সওকত মোল্লার পরিবারের পক্ষ থেকে এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, তিনি নিজেই আইন মেনে আত্মসমর্পণ করার উদ্দেশ্যে কলকাতা আসছিলেন। সেই সময় ইএম বাইপাসের কাছ থেকে এনআইএ আধিকারিকরা তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেন।

এই মামলায় সওকত মোল্লাকে নিয়ে এখনও পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় সংস্থা। এর ঠিক আগের দিনই বোমা প্রস্তুতকারকদের গাড়ি করে পারাপার করার অভিযোগে স্করপিও গাড়ির চালক সাইনুর মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এনআইএ সূত্রে খবর, শনিবারই প্রাক্তন বিধায়ককে বিশেষ এনআইএ আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। আইন নিজের পথেই চলছে।