প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ কাণ্ডে এবার এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর মোড় এল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)-র দাবি, এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে সাধারণ কোনো রাজনৈতিক গণ্ডগোল ছিল না, বরং এর পেছনে লুকিয়ে ছিল গভীর কোনো দেশবিরোধী কার্যকলাপ। আর এই মারাত্মক অভিযোগের ভিত্তিতেই ভাঙড়ের দাপুটে নেতা সওকত মোল্লার বিরুদ্ধে এবার দেশের সবচেয়ে কড়া এবং জামিন অযোগ্য ইউএপিএ (UAPA – Unlawful Activities Prevention Act) বা ‘সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইন’-এর ধারা যুক্ত করতে চায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। আগামী সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) এই মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হাইভোল্টেজ শুনানি রয়েছে আদালতে। এনআইএ-র এই পদক্ষেপের পর সওকত মোল্লা কি এবার আরও বড় আইনি বিপাকে পড়তে চলেছেন, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ভোটের ঠিক আগে ভাঙড়ে হওয়া বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ও যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এনআইএ-র প্রাথমিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনা কেবল সাধারণ বোমাবাজি ছিল না, বরং এর পেছনে বড় কোনো দেশবিরোধী নাশকতার ছক ও ষড়যন্ত্র লুকিয়ে ছিল। আর এই কারণেই সাধারণ ধারার পরিবর্তে অত্যন্ত কড়া ইউএপিএ (UAPA) ধারা যুক্ত করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানাতে চলেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
এই মামলায় সওকত মোল্লার রাজনৈতিক ও আইনি ভবিষ্যৎ কোন দিকে ঘুরবে, তা অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যাবে আগামী সোমবারের শুনানিতে। আদালত যদি এনআইএ-র এই আবেদনে সবুজ সংকেত দেয় এবং ইউএপিএ (UAPA) ধারা যুক্ত করার অনুমতি দেয়, তবে সওকত মোল্লার আইনি জটিলতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। কারণ, এই আইনের অধীনে অভিযুক্ত হলে সহজে জামিন পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের জমানায় যেকোনো ধরণের নাশকতামূলক কাজ বা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের কড়া অবস্থানের মাঝেই এনআইএ-র এই বড় চাল সওকত তথা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শিবিরের ওপর চাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।