প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এবার স্থানীয় পুরপ্রশাসনগুলির ওপর নজরদারি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার চাপ বাড়তে শুরু করেছে। আজ ভাটপাড়া পৌরসভায় আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি করলেন নোয়াপাড়ার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং। পুরসভার বর্তমান প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক আর্থিক গরমিল এবং নাগরিক পরিষেবা থমকে থাকার অভিযোগে সরব হয়ে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভাটপাড়া পুরসভার এই সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে খুব শীঘ্রই একটি সুনির্দিষ্ট এফআইআর (FIR) দায়েরের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হতে পারে।

আজ ভাটপাড়া পুরসভার মূল কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন অর্জুন সিং। বিধায়ক পুরসভায় উপস্থিত হলেও সেখানে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দিনের পর দিন কেন শীর্ষ আধিকারিকরা গরহাজির থাকছেন, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন তিনি। শহরের রাস্তাঘাট সংস্কার, আলো এবং আবর্জনা পরিষ্কারের মত নূন্যতম নাগরিক উন্নয়নমূলক কাজ সম্পূর্ণ আটকে রয়েছে বলে বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।পুরসভার একটা বড় অংশের অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক সাফাই কর্মীরা সঠিক সময়ে বেতন পাচ্ছেন না, যার ফলে সাধারণ মানুষের পরিষেবা পাওয়ার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাটপাড়া তথা ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এসেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠনের পর, পুরসভাগুলির কাজে স্বচ্ছতা আনতে রাজ্যজুড়ে এক নতুন প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ৩৫ টি ওয়ার্ড বিশিষ্ট ভাটপাড়া পৌরসভা বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ইতিপূর্বেও এই পুরসভার টেন্ডার বণ্টন এবং ব্যাংকিং লেনদেন নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে একাধিকবার আইনি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এবার রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক বিন্যাসের পর পুরসভার হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা আনার দাবিতে সরব হয়েছে পদ্ম শিবির।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অর্জুন সিং জানান, পুরসভার আর্থিক ও প্রশাসনিক স্থবিরতার বিরুদ্ধে তাঁরা শুধু রাজনৈতিক আন্দোলনই করবেন না, বরং সমস্ত আইনি দিক খতিয়ে দেখে খুব দ্রুত থানায় নির্দিষ্ট অভিযোগ এবং এফআইআর (FIR) দায়ের করার পথে হাঁটবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির এই আকস্মিক ও তথ্যভিত্তিক পদক্ষেপ ভাটপাড়া পুরপ্রশাসনের ওপর এক চরম প্রশাসনিক চাপ তৈরি করল। যেহেতু রাজ্যে এখন নতুন দল ক্ষমতায় রয়েছে, তাই পুরসভাগুলির আর্থিক অডিট (Audit) এবং বিগত দিনগুলির কাজের খতিয়ান খতিয়ে দেখার এই আইনি প্রক্রিয়া আগামী দিনে ব্যারাকপুর অঞ্চলের রাজনীতিতে এক বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে। পুরো বিষয়টি এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।