প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- কালিয়াচকে সাত বিচারককে আটকে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। আর এই উত্তাপের পারদ আরও চড়ালেন বিজেপি প্রার্থী তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। তাঁদের অভিযোগের তির সরাসরি রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী তথা মোথাবাড়ির বিদায়ী বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের দিকে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই নজিরবিহীন ঘটনার পিছনে রয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সুগভীর পরিকল্পনা, যা বাস্তবায়িত করেছেন সাবিনা।

ঘটনার সূত্রপাত অমিত মালব্যর একটি এক্স পোস্টকে কেন্দ্র করে। সেখানে একটি ভিডিও শেয়ার করে মালব্য দাবি করেছেন, কালিয়াচকে সাত বিচারককে আটকে রাখার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই সাবিনা ইয়াসমিনকে তাঁর সমর্থকদের নিয়ে প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছে। মালব্যর হুঁশিয়ারি, “এখন আর এই সব পোস্ট ডিলিট করে কোনও লাভ নেই। সব প্রমাণ আমাদের কাছে সংগ্রহ করা আছে।” এই ভিডিওটি পোস্ট করে তিনি সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট এবং নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হয়েও কি তবে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পেছনে কোনও উস্কানি ছিল? বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে কোনো রাখঢাক না করেই জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটিই তৃণমূলের মস্তিস্কপ্রসূত। তাঁর দাবি, সাবিনা ইয়াসমিন কেবল দলের নির্দেশ পালন করেছেন।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, নির্বাচনের ঠিক আগে বিচারকদের পথ আটকানোর মতো ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিদায়ী মন্ত্রী। সাবিনা ইয়াসমিনের পাল্টা দাবি, শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে ভয় পান বলেই এই ধরণের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন। তাঁর কথায়, “শুভেন্দু আমাকে বরাবরই ভয় পায়। ভোট এলেই এই ভয় বাড়ে। শুভেন্দুর এই ভয় আমার বেশ ভালো লাগছে।” অর্থাৎ অভিযোগের জবাব সরাসরি না দিয়ে একে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বলেই লঘু করার চেষ্টা করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, সাবিনা ইয়াসমিন দীর্ঘদিনের রাজনীতিক এবং মোথাবাড়ির বিধায়ক হিসেবে পরিচিত হলেও, এবার তৃণমূল তাঁকে কেন্দ্র বদল করে সুজাপুর থেকে টিকিট দিয়েছে। নাম ঘোষণার পর থেকেই তিনি ময়দানে সক্রিয়। কিন্তু কালিয়াচকের ঘটনা এবং তাতে তাঁর নাম জড়িয়ে যাওয়ায় নতুন করে বিড়ম্বনায় পড়েছে ঘাসফুল শিবির।কালিয়াচকের মত একটি স্পর্শকাতর এলাকায় বিচারকদের হেনস্থার ঘটনার রেশ কতদূর গড়ায় এবং নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে বিজেপির এই ‘ডিজিটাল স্ট্রাইক’ যে সুজাপুরের নির্বাচনী লড়াইয়ে সাবিনাকে কিছুটা রক্ষণাত্মক অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।