প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
গত দেড় বছর ধরে যে চোখ কেবল জল ফেলেছে, সেই চোখে আজ দাউদাউ করে জ্বলছে প্রতিবাদের আগুন। রাজপথের হাহাকার আর বিচারের দীর্ঘশ্বাস এবার রাজনীতির রণক্ষেত্রে গর্জে উঠল। আরজিকরের সেই অভয়ার মা, যিনি এতদিন কেবল ন্যায়ের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনেছেন, আজ তিনি নিজেই সিস্টেমের আমূল পরিবর্তনের ডাক দিলেন। গতকাল নিজেই ফোন করে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন—এ লড়াই আর কেবল কান্নার নয়, এ লড়াই সিংহাসন টলানোর। ক্ষোভের সুরে নির্যাতিতার মা জানিয়েছেন, বামপন্থীরা আসলে আন্দোলনের আবহে নিজেদের হারানো জমি খোঁজার খেলায় মেতেছে। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, সিপিএম-এর এই মেকি আন্দোলন আদতে তৃণমূলের হাত শক্ত করার এক গোপন কৌশল। ভোট কাটাকুটির অঙ্ক কষে তারা পরোক্ষভাবে শাসকদলকেই সুবিধা করে দিচ্ছে। এই ‘ছদ্মবেশী’ রাজনীতিকে ধিক্কার জানিয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন প্রতিবাদের প্রকৃত মঞ্চ। তাঁর কথায়, “ক্ষমতা হাতে না এলে এই অন্ধকার ঘুচবে না, বিচার পেতে আরও দেরি হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, অভয়ার মায়ের এই পদক্ষেপ ভারতীয় জনতা পার্টিকে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন করলো। যেখানে বামেরা কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ আর শাসকের দল দমনে ব্যস্ত, সেখানে বিজেপি হয়ে উঠলো সেই শোকাতুর পরিবারের আশ্রয়ের স্থল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একমাত্র বিজেপির সুদৃঢ় সাংগঠনিক শক্তিই পারে তৃণমূলের এই দুর্ভেদ্য দুর্নীতির প্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে। নির্যাতিতার পরিবার আজ উপলব্ধি করেছে যে, আদর্শিক লড়াইয়ের চেয়েও বড় হলো ন্যায়ের অধিকার ছিনিয়ে আনা। আর সেই অধিকার আদায়ের যাত্রায় বিজেপির হাত ধরা এক ঐতিহাসিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানিহাটির গঙ্গা তীরের শান্ত বাতাস আজ এক রাজনৈতিক ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শাসকের রক্তচক্ষু আর বামেদের দ্বিচারিতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এক মা আজ বর্ম পরেছেন। ২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে এই মা-ই কি পারবেন অভয়ার আত্মার শান্তি আর বাংলার মা-বোনেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে? উত্তর দেবে সময়। তবে আজ এটুকু নিশ্চিত যে, ক্ষমতার অলিন্দে থাকা রথী-মহারথীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এক বিচারপ্রার্থিনী মায়ের এই দৃঢ় সংকল্প।