প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২১ এর নির্বাচনের আগে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার থেকেও বেশি বিজেপির হাওয়া উঠতে শুরু করেছে, ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ২১ সালে যতটা ঝাপিয়ে পড়েছিল এই বাংলা দখল করার জন্য, তার থেকে আরও তিনগুণ বেশি ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবার। স্বাভাবিকভাবেই বোঝাই যাচ্ছে যে, বিজেপি এবার কতটা আন্তরিক এই পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখলের ব্যাপারে। কেন্দ্রীয় নেতারাও পশ্চিমবঙ্গে সংগঠনকে চাঙ্গা করার কাজে নেমে পড়েছেন। মুখে যাই বলুন তৃণমূল নেতারা, তারাও বুঝতে পারছেন যে, এবার লড়াইটা অতটা সহজ নয়। ইতিমধ্যেই ভাতার টাকা বৃদ্ধি করে যুব সাথীর মত প্রকল্প করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেকারদের সমর্থন নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এত কিছুর পরেও যে তৃণমূল টিকে থাকবে না, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত এই রাজ্যের বিজেপির সহ পর্যবেক্ষক বিপ্লব দেব। এর আগেও তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তার কুন্ডলীতে হার নেই। তিনি যেখানে যেখানে দায়িত্ব নিয়েছেন, সেখানেই তিনি জিতেছেন। আর এবারেও তিনি যখন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বে এসেছেন, তখন এখানে পদ্ম ফুটিয়ে তবেই যাবেন। আর আজ আরও একবার সেই কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায়ের সব থেকে বড় কারণ সামনে আনলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
বিগত ৩৪ বছরে বাম সরকারের আমলে যে পরিমাণ অরাজকতা পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হয়েছিল, তার থেকেও বহুগুণ অরাজকতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এই ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের আমলে। বামেরা রাজ্যের যা ক্ষতি করেছিল, ১৫ বছরে তৃণমূল তার থেকে আরও বহুগুণ রাজ্যের ক্ষতি করেছে বলেই দাবি করছে বিজেপি। যে রাজ্যে চাকরি নেই, যে রাজ্যে কর্মসংস্থান নেই, যে রাজ্যে শিল্প নেই, সেখানে প্রত্যেকেই হতাশ। আর বিভিন্ন সময় বিজেপির নেতারা একটা কথা বলেন যে, এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের জন্য কিছু ভাবেনি। বরঞ্চ নিজের পরিবারের জন্য ভেবেছেন। আর সেই কারণেই আমি থেকে আমরা হতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেসের মত দল। আর যারা ক্ষমতায় থেকেও মানুষকে সাথে নিয়ে চলতে পারেনি, তাদের বিদায় যে নিশ্চিত, আজ আরও একবার তা বুঝিয়ে দিলেন বিপ্লব দেব।
সম্প্রতি বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। যেখানে তার স্ত্রী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন। আর সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই আছে বিজেপি বিধায়কের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ বিপ্লব দেব। আর সেখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায়ের সব থেকে বড় কারণটি উল্লেখ করেন তিনি। বিপ্লববাবু বলেন, “বাংলা তো জিতবেই। বিপ্লব দেবের কুন্ডলিতে হার নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক নির্বাচনী হেরেছেন। তারপর ২০১১ সালে এসেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সব থেকে বড় দুর্ভাগ্য, উনি জীবনে আমরা বলতে পারলেন না। এই আমরা শব্দটা শিখলেই উনি জনতার সেবক করতে পারতেন।”