প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬ এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজ্যজুড়ে জারি হয়েছে কড়া প্রশাসনিক নজরদারি। আর আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হতেই বড়সড় সাফল্য মিললো আলিপুরদুয়ারে। বুধবার বিকেলে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে অসমের এক ব্যবসায়ীর বিলাসবহুল গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করল পুলিশ। যেখানে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ এবং দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা শহরের চৌপথি সংলগ্ন এলাকায় একটি হোটেলের সামনে ওত পেতে ছিলেন। অসমের চিরাং জেলা থেকে আসা একটি বিলাসবহুল গাড়ি দেখে সন্দেহ হয় তাঁদের। গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। গাড়ির বনেট এবং ছাদের একটি বিশেষ গোপন কুঠুরি থেকে উদ্ধার হয় থরে থরে সাজানো ৫০০ ও ১০০ টাকার নোটের বান্ডিল।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির নাম বিকেন ঈশ্বরারি। তিনি অসমের একজন রেশন ডিলার এবং সুপারির ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছেন। তাঁর সাথে তাঁর স্ত্রীও ছিলেন। পুলিশি জেরায় তাঁরা দাবি করেছেন যে, ব্যক্তিগত কাজে এবং ভ্রমণের জন্য তাঁরা আলিপুরদুয়ারে এসেছিলেন। তবে নির্বাচনী আবহে কেন এত নগদ টাকা তাঁরা লুকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তার কোনো সদুত্তর বা বৈধ নথি তাঁরা দিতে পারেননি।
সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত মোট ২ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। গাড়ির বনেটের উপর রেখেই সেই টাকা গোনার কাজ চলে। প্রশাসনের সন্দেহ, এই টাকা নির্বাচনের কাজে ভোটারদের প্রভাবিত করতে বা অন্য কোনো অসাধু উপায়ে ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে নির্বাচনের মুখে এই উদ্ধার অভিযান প্রমাণ করে যে, কমিশন ও প্রশাসন কোনো প্রকার অবৈধ লেনদেনের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভিন রাজ্য থেকে টাকা আসা রুখতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা ফের একবার স্পষ্ট হলো এই ঘটনায়। ধৃত ব্যক্তি যেহেতু একজন রেশন ডিলার, তাই কোনো সিন্ডিকেট বা বড়সড় দুর্নীতির যোগসূত্র আছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং আয়কর বিভাগকে পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপের মধ্যে এই ঘটনা যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।