প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-অহংকার আর দুর্নীতির তাসের ঘর ভেঙে পড়তে খুব বেশি সময় লাগে না—বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন যেন আজ সেই ধ্রুব সত্যকেই ফের প্রমাণ করল। ৯ মে নতুন সরকারের শপথগ্রহণের প্রাক্কালে সেজে উঠছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। তবে এই সাজসজ্জার মাঝেই যে দৃশ্যটি সবথেকে বেশি নজর কেড়েছে, তা হলো বিধানসভার কক্ষগুলি থেকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ছায়াসঙ্গী ফিরহাদ হাকিমের নামফলক বা নেমপ্লেট সরিয়ে ফেলা।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যে নামগুলির দাপটে বিধানসভার অলিন্দ কেঁপে উঠত, আজ জনমতের ধাক্কায় সেই নামগুলোই অপসারিত। ৭ মে রাজ্যপাল আর.এন. রবি সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে মমতা মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার পরই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিধানসভা সূত্রে খবর, শুধু মমতা বা ফিরহাদ নন, বিদায়ী মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ-সহ একাধিক নেতার কক্ষ এখন ‘নামহীন’। রাজনৈতিক মহলের মতে, দেওয়াল থেকে এই নেমপ্লেট খুলে ফেলা আসলে বাংলার বুক থেকে এক শ্বাসরুদ্ধকর রাজনীতির অবসানেরই প্রতীক।
তৃণমূল জমানার দুর্নীতির অন্যতম বড় ক্ষত ছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বন্ধ ঘরটি। দীর্ঘ সময় যা অব্যবহৃত পড়ে ছিল, আজ পরিবর্তনের হাওয়ায় সেই ঘরের তালাও খুলে দেওয়া হয়েছে। বিধানসভার অন্দরমহলে এখন চলছে জোরকদমে সংস্কারের কাজ। জল্পনা ছড়িয়েছে, মহাকরণ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিং থেকেই আপাতত নতুন সরকারের সচিবালয় পরিচালিত হতে পারে।
বিজেপির বিপুল জয়ের পর এই পরিবর্তন নিছকই প্রশাসনিক নয়, বরং নৈতিক। জনতা যে দুর্নীতির পাহাড় (শিক্ষক নিয়োগ থেকে রেশন কেলেঙ্কারি) দেখেছে, তারই বিচার হয়েছে ব্যালট বক্সে। আইনি পদ্ধতি মেনেই রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন এবং সেই সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই পুরনো সরকারের অস্তিত্ব মুছে ফেলা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, তৃণমূলের বিদায়বেলায় এই ‘নেমপ্লেট’ সরে যাওয়া আসলে উদ্ধত রাজনীতির পতন এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রথম পদক্ষেপ।
কালীঘাটের দাপট আজ ফিকে। বিধানসভার দেওয়ালে এখন নতুন নামের অপেক্ষা, যেখানে ঠাঁই হবে জনগণের সেবকদের, কোনো পরিবারের ‘পারিষদ’দের নয়। বাংলার মানুষ এখন তাকিয়ে ৯ মের দিকে, যখন এক নতুন সূর্যোদয় দেখবে রাজ্য।