প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-১৮ তম বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে বিধায়ক হিসেবে শপথগ্রহণের জন্য আজ বিধানসভা ভবনে পা রাখেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু অ্যানেক্স ভবনে গিয়ে মূল শপথবাক্য পাঠ করার ঠিক আগের মুহূর্তে তিনি এমন একটি কাজ করলেন, যা দেখে রীতিমতো চমকে গেছেন বিধানসভার দীর্ঘদিনের কর্মী থেকে শুরু করে উপস্থিত রাজনীতিকরা। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিধানসভার অলিন্দে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে।

গাড়ি থেকে নেমে প্রোটোকল মেনে বিধানসভায় প্রবেশের পর, মুখ্যমন্ত্রী সোজা চলে যান তাঁর জন্য নির্দিষ্ট করা নিজস্ব অলিন্দ বা অফিস কক্ষে। সেখানে তাঁর সাথে দলের হাতেগোনা কয়েকজন শীর্ষ নেতা ছাড়া বাকি কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বন্ধ ঘরের ভেতরে গিয়ে সম্পূর্ণ সনাতনী হিন্দু বৈষ্ণব সংস্কৃতির রীতিনীতি মেনে নতুন করে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করেন মুখ্যমন্ত্রী। কপালে তিলক ধারণ করে বেশ কিছুক্ষণ নিভৃতে ধ্যান ও বিশেষ পুজো অর্পণ করেন। বিধানসভার অন্দরে খোদ নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ঘর থেকে ঘণ্টা ও শঙ্খধ্বনির আওয়াজ আসতেই চমকে ওঠেন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা আধিকারিকরা। ঈশ্বরের কাছে বাংলার মানুষের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা সেরে তবেই তিনি নিজের কক্ষ থেকে বের হন।

বিজেপি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভার মত গণতন্ত্রের পবিত্র মন্দিরে কাজ শুরু করার আগে ঈশ্বরের আশীর্বাদ নেওয়া শুভেন্দুবাবুর দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঐতিহ্য। তবে বাম বা তৃণমূল জমানার পর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে এই ধরণের প্রকাশ্য আধ্যাত্মিক ও সনাতনী রীতিনীতির চর্চা এই প্রথম, যা এক নতুন যুগের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিজের অন্তরের এই ভক্তি ও সনাতনী চেতনাকে সঙ্গী করেই পুজো শেষে ঘর থেকে বেরিয়ে অ্যানেক্স ভবনে যান শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রথম বিধায়ক হিসেবে ঐতিহাসিক শপথবাক্য পাঠ করেন।