প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নিজের বাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় করা মন্তব্য ঘিরে এবার তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক সাঁড়াশি চাপে পড়লেন প্রবীণ সিপিএম নেতা তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। ফেসবুক পোস্টের জেরে ইতিমধ্যেই কলকাতার দুটি থানা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে তলব করেছে। এর সমান্তরালে বীরভূমের বোলপুর থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে এফআইআর (FIR)-এর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে যাদবপুরে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখে কাপড় বাঁধা অবস্থায় কাচের বোতল ও পাথর ছুঁড়ে জানলা ভাঙা হয়। এই ঘটনার পর ফেসবুকে একটি পোস্ট করে প্রবীণ আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর বাড়িতে ‘হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা’ হামলা চালিয়েছে। তাঁর এই ফেসবুক পোস্ট ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের পোস্টে ‘হিন্দুত্ববাদী গুন্ডা’ শব্দবন্ধ ব্যবহারের তীব্র আপত্তি তোলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একটি জনসভা থেকে তিনি কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে জানান, ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই বিতর্কিত শব্দটি ফেসবুক পোস্ট থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। গতকাল রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে সেই সময়সীমা বা ডেডলাইন পার হয়ে গেলেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন বাম নেতা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কোনো হুমকির মুখে পড়ে তিনি নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন না এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই সত্য সামনে আনবেন। এদিকে ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া সময়সীমা পার হওয়ার পরেই সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ প্রশাসন। কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে প্রবীণ আইনজীবীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশি নির্দেশিকা অনুযায়ী: আগামী মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর): তাঁকে কলকাতার গড়ফা থানায় উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। আগামী বুধবার (১৪ অক্টোবর): তাঁকে কসবা থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কলকাতার জোড়া থানার নোটিশের পাশাপাশি এবার বীরভূমের বোলপুর থানাতেও বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। বোলপুরের স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কার্যকর্তা সৌরিশ মুখোপাধ্যায় এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই একজন প্রবীণ রাজনীতিক ও আইনজ্ঞ হয়ে কীভাবে তিনি গোটা হিন্দু সমাজকে দাগিয়ে দিয়ে এই মন্তব্য করলেন? এর মাধ্যমে সনাতন হিন্দু সমাজকে চরম অপমান করা হয়েছে এবং সমাজে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
আইনি পদক্ষেপ এবং বিজেপির এই সক্রিয়তার বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দেগেছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, পুলিশি তদন্তে ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করতেই বিজেপি ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে বিষয়টির ‘রাজনীতিকরণের চেষ্টা’ করছে। তিনি কোনো নোটিশ বা হুমকিতে পিছু হটবেন না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন।